রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সলঙ্গায় স্কুলছাত্রী অপহরণের চেষ্টা, জনতার হাতে আটক যুবক সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্ভোধন করলেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বান্দরবান সাঙ্গুতে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ ২ দিন পর উদ্ধার অভয়নগরে মাদক-জুয়ার দখলে ভবিষ্যৎ: ঘরে ঘরে কান্না, রাস্তায় অপরাধ দৌলতপুরে ধর্ষণের অভিযোগের ন্যায়বিচার না পেয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ পীরের ছেলের বিরুদ্ধে রামগড়ে তিন দিনের ব্যবধানে দুই বাড়িতে চুরি বিএনপি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে- আটঘরিয়ায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি রুমা গোপালপুরে আলুবোঝাই পিকআপ থেকে দুই বস্তা গাঁ’জাসহ ৩ জন আটক

যে সব পশু দ্বারা কোরবানী জায়েজ – মাওলানা:শামীম আহমেদ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ৪:২৯ অপরাহ্ন

যেসব পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ : ছয় ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ বা বৈধ। এসব পশু ছাড়া অন্য পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। তা হলো উট, গরু, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া ও মহিষ। (হেদায়া : ৪/৪৪৮)

পশুর বয়স : দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার বয়স এক বছর হলে এদের দ্বারা কোরবানি করা বৈধ। অবশ্য ছয় মাসের ভেড়া ও দুম্বা মোটাতাজা হলে এবং এক বছর বয়সের মতো দেখা গেলে তা দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। গরু ও মহিষ পূর্ণ দুই বছর বয়সী হতে হবে। দুই বছরের কম হলে কোরবানি জায়েজ হবে না। উট পাঁচ বছর বয়সের হতে হবে। এর কম হলে কোরবানি জায়েজ হবে না। (হেদায়া : ৪/৪৪৯)

কোরবানির পশু যেমন হওয়া উত্তম : কোরবানির পশু হবে ত্রুটিমুক্ত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, মধ্যবয়সী ও দৃষ্টিনন্দন। পবিত্র কোরআনে যেমনটি ইরশাদ হয়েছে, ‘মুসা বলল, আল্লাহ বলছেন, তা এমন গরু যা বৃদ্ধও নয়, অল্পবয়স্কও নয়—মধ্যবয়সী। সুতরাং তোমরা যা আদিষ্ট হয়েছ তা বাস্তবায়ন করো।…আল্লাহ বলছেন তা হলুদ বর্ণের গরু, তার রং উজ্জ্বল গাঢ়, যা দর্শকদের আনন্দ দেয়।…মুসা বলল, তিনি বলছেন, তা এমন এক গরু, যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানিসেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি—সুস্থ, নিখুঁত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬৮-৭১)

উল্লিখিত আয়াতের আলোকে ইসলামী আইনজ্ঞরা বলেন, কোরবানির পশু নিখুঁত, দৃষ্টিনন্দন, সুস্বাস্থ্যের অধিকার ও মধ্যবয়সী হওয়া উত্তম। দৃষ্টিনন্দন যেকোনো রঙের পশু যেমন কোরবানি করা যাবে, তেমনি চাষাবাদে ব্যবহৃত হওয়ার পরও যদি পশু ত্রুটিমুক্ত থাকে তাহলে তা দিয়েও কোরবানি করা যাবে।

কতজন শরিক হতে পারবে : গরু, মহিষ ও উট—এই তিন ধরনের পশুর একেকটিতে সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি করতে পারবে। তবে কোরবানির জন্য শর্ত হলো, কারো অংশ যেন এক-সপ্তমাংশের চেয়ে কম না হয়। প্রত্যেক শরিককেই কোরবানি অথবা আকিকার মতো কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করতে হবে। যদি শরিকদের একজনও গোশত খাওয়ার নিয়ত করে তাহলে কারো নিয়ত দুরস্ত হবে না। অনুরূপভাবে যদি কোনো শরিকের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হয় তাহলে সবার কোরবানিই নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ৫/৩০৪)

যদি গরু কেনার আগে অংশীদাররা সবাই মিলে কেনে তাহলে তা জায়েজ। আর যদি কেউ একা কোরবানি করার জন্য একটা গরু কেনে এবং মনে মনে ইচ্ছা রাখে পরে আরো লোককে অংশীদার করবে, তা-ও জায়েজ আছে। তবে যদি ব্যক্তি এমন হয়, যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় এবং তিনি কেনার সময়ও অন্যদের শরিক করার নিয়ত করেননি তাহলে অন্য কাউকে নতুন করে অংশীদার করতে পারবেন না। এককভাবে কোরবানি করতে হবে। আর ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে অন্যদের শরিক করতে পারবে। তবে এমনটি করা অনুচিত। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৫/৩০৪)

যেসব ত্রুটির কারণে কোরবানি জায়েজ হয় না : ফকিহ আলেমরা বলেন, কোরবানি জায়েজ হওয়ার জন্য মৌলিকভাবে পশু চারটি মারাত্মক ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে। তা হলো—ক. গুরুতর অন্ধত্ব, খ. গুরুতর অসুস্থতা, গ. খোঁড়া হওয়া, ঘ. গুরুতর স্বাস্থ্যহানি ও অঙ্গহানি ঘটা। (আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, কোরবানি অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর