শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

ই-পেপার

ভাঙ্গুড়ায় নড়বড়ে ঘরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিশুরা

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বেতুয়ান ও বৃলাহিড়ী গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। বিবি দাখিল মাদরাসার জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে টিনের ঘরে বসেই পাঠদান চলেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যে কোনো সময় ঘরটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে বেতুয়ান ও বৃলাহিড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিবি দাখিল মাদরাসা। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর দুই বছর পর তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরে একটি টিনের ঘর ও আরও তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনসেড ভবন তৈরি করা হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটেনি।
বর্তমানে মাদরাসাটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে পড়াশোনা করতে হচ্ছে ইবতেদায়ী শাখার শিশু শিক্ষার্থীদের।

ইবতেদায়ী শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী রুবাইয়া জানায়, ভাঙা ঘরে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় লাগে। সামান্য বাতাসেই ঘরটা নড়ে ওঠে। মনে হয় এই বুঝি মাথার ওপর ঘর ভেঙে পড়বে।

অন্য শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম ও মেরাজ আলী বলেন, আমাদের ক্লাসরুমে বসে টিনের ছিদ্র দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি চলে আসে বই-খাতা সব ভিজে যায়। আমরা চিৎকার করি কিন্তু কেউ আসে না। অনেক সময় আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই নতুন, নিরাপদ ঘরে ক্লাস হোক।

শিক্ষকরা বলছেন, এই পরিবেশে শিশুদের ক্লাস করানো আমাদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, মাদরাসা ক্যাম্পাসে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে মাঠটি গো-চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় মানুষজনও নানা ব্যক্তিগত কাজে মাঠ ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে, যাতে শিশু শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা নিতে পারে।

মাদরাসার সুপার মো. শামসুল আলম জানান, টিনের ঘরটি পাঠদানের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিশু শিক্ষার্থীরা ভয় পায়। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। দ্রুতই ঘরটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর