মেলা হলো মানুষের এক আনন্দ সম্মিলন। আর পৌষমেলা হলো শীতে হাজার বছরের বাঙালির ভূমি থেকে উৎসারিত নবান্ন উৎসবের একটি সম্প্রসারিত সর্বজন নন্দিত রূপ। ভাবের বাহন যেমন ভাষা, তেমনি একটি জাতির পরিচয় বহন করে তার সংস্কৃতি। এই মেলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল বাংলা লোকসংগীতের (বিশেষত বাউল গান) অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এই পৌষমেলা ৭ পৌষ ১৯২৮ (২১ ডিসেম্বর ১৮৯১)-এ শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা স্মরণ ও প্রতিষ্ঠাতা হলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি। এই মেলা বছরে একবার হয় ৩দিন ব্যাপি।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারী) নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ঝুপদুয়ার এলাকায় তিনদিন ব্যাপি ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন পৌষ মেলা শুরু হয়েছে।
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের কালিপুজা উপলক্ষে তিন দিনের এ গ্রামীন পৌষ মেলায় বিশাল এলাকা জুড়ে বসেছে সারি সারি হরেক রকমের দোকান। মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পুণ্যর্থীদের পদচারণায় মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। আর মেলায় গ্রাম বাংলার গ্রামীন মুখরোচক নানা খাবার, প্লাণ্টিক পণ্য ও নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী শিশুদের খেলনার দোকানে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনা চলে অনেক রাত পযন্ত। এ গ্রামীন পৌষ মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় হরক রকমের মিষ্টি ও জিলাপী। এছাড়া কম দামের কাঠের তৈরি আসবারপত্র বিক্রির জন্য আনা হয়েছে।
মেলা জমে উঠায় খুশি দোকানী ও আয়োজনকারীরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ২০০ বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী কালিপুজা উপলক্ষে বিশাল এলাকা জুড়ে বসে মেলা। মেলা দেখতে দুরদুরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যর্থী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। মেলা জমে উঠাই খুশি আয়োজকরা। তিন দিনের মেলা বুধবার শুরু হয়ে চলবে শুক্রবার পযন্ত।
মেলা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী উজ্জল প্রাং বলেন, মেলাটি ২০০ বছরের পুরানো,প্রতিবছরের ন্যায় এইবারও শান্তিপূর্ন ভাবে মেলাটি উৎযাপন হচ্ছে। মেলায় সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ। প্রতিবছর পৌষের শেষে ২০০শ বছর সময় ধরে কালিপুজা উপলক্ষে গ্রামীন এ পৌষ মেলার আয়োজন করে আসছে নলডাঙ্গার ঝুপদুয়ার গ্রামবাসী।