সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

নওয়াপাড়ার কয়লা-বালুর ড্যাম্পে জনজীবন অতিষ্ঠ, প্রশাসনের নীরবতা বাড়াচ্ছে দুর্ভোগ

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর ):
আপডেট সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ন

যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগরের রাজঘাট থেকে প্রেমবাগ এলাকায় সড়কপথে চলাচল এখন বিপদসীমার কালে। দুইপাশে অসংখ্য কয়লা ও বালুর ড্যাম্পের কারণে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, ড্যাম্পগুলো থেকে ছড়ানো ধোঁয়া ও ধুলো দিনে-রাতে ছাব্বিশ ঘণ্টা চলাচলকারী পথচারীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের শারীরিক অসুবিধা সৃষ্টি করছে। “আমরা হাঁটতে ভয় পাই, রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালাতে বিপদে পড়ি। ছোটখাট দুর্ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে,” জানালেন স্থানীয় ব্যবসায়ী রেজাউল করিম।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম ও নীতিমালা কার্যকর না করায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিকাংশ কয়লা-বালুর ড্যাম্পের বৈধ ছাড়পত্র নেই। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনজীবন আজ বিপর্যস্ত।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিছু ড্যাম্পের মালিক নথি সম্পূর্ণ না রাখায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় একশ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে প্রতিদিন ব্যবসা চালাচ্ছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ধুলো ও কয়লা-বালুর ধোঁয়া দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখের সমস্যা ও অন্যান্য ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। উপজেলার সচেতন নাগরিকরা দাবি করছেন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্যাম্পগুলো বন্ধ করুক এবং সড়কের ধুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। নইলে রাজঘাট থেকে প্রেমবাগ পর্যন্ত যাতায়াত পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলীমুর রাজিব বলেন, কয়লা ধোঁয়া ও বালু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টসহ জঠিল ও কোঠিন রোগ হয়। যা মানব শরীরের জন্য কাম্য নয়। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর