সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’ রাণীনগরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেড়িয়ে প্রাণ গেল কিশোরের! আহত ৫ ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল ৩৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

রমজানে উল্লাপাড়া সলপের ঘোলের চাহিদা সমগ্র বাংলাদেশে

মোঃ আমিনুল ইসলাম, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু পানীয় খ্যাতি পেয়েছে ‘সলপের ঘোল। প্রতিদিন ভোরে গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে সংগৃহীত গরুর দুধ তিন থেকে চার ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ঘোল তৈরি করা হয়ে থাকে। গাভী গরুর দুধ নির্দিষ্ট সময় জ্বাল দেওয়ার পর পাত্রে করে রেখে দেওয়া হয় রাত ভর সেই দুধ। সকালে জমে থাকা সেই দুধের সঙ্গে চিনি ও অন্য উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ঘোল ।

সেই ঘোলের সুনাম শুধু সিরাজগঞ্জে নয়, দেশের দুরদুরান্তে ছড়িয়ে আছে সলপের ঘোলের সুনাম,এমনকি ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বাংলাদেশে।

স্থানীয়রা বলেন, সলপের ঘোল তৈরির পেছনে আছে ১শ’ বছরের ঐতিহ্য। ইতিমধ্যে গরম ও রোজায় এই ঘোলের চাহিদা ব্যাপক হাড়ে বেড়ে গেছে। দিনরাত কাজ করে চলেছেন ঘোল তৈরী কারীগররা। বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এই ঘোল কিনতে ভিড় করছেন উপজেলার সলপ রেলস্টেশনে।

শনিবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের পাশে ঘোলের দোকানগুলো জমে উঠেছে রমরমা। দোকানের সামনে মাটির পাত্রে পসরা সাজিয়ে চলছে বিক্রি। দোকানের পেছনে ঘোল তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারীগররা অনেকেই দূরদূরান্তে থেকে ঘোলের জন্য এখানে এসেছেন। আবার দোকানে অনেকে বসে ঘোলের স্বাদ নিচ্ছেন।

ঘোল বিক্রেতা আব্দুল রাজ্জাক ও খালেক বলেন, প্রতিদিন এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ মণ ঘোল ও মাঠা বিক্রি হয়। প্রতি লিটার ঘোল পাইকারী ৬০ টাকা, মাঠা ৮০ এবং খুচরা প্রতিলিটার ঘোল ৮০ টাকা,মাঠা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাবনার বাগুড়া থেকে ঘোল কিনতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, আমি প্রতি রোমজান মাসে এই সলপ থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লিটার ঘোল ও মাঠা আমার এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাই। রমজান মাসে ঘোল ও মাঠার বেশ চাহিদা রয়েছে আমাদের এলাকায়।

তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া থেকে ঘোল কিনতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, সলপের ঘোলের সাদ অতুলনীয়। প্রায়ই আমি ঘোল কিনতে আছি। ঘোলের মান অনুযায়ী দাম খুব একটা বেশি না। রমজানে ইফতারের সময় এই ঘোলে অনেকটা প্রশান্তি পাওয়া যায়,তাই চলে আসছি সকাল সকাল ঘোল কিনতে সলপ রেলষ্টেশনে।

 

ঘোল উৎপাদনকারী আবদুল মালেক খান জানান, এই ব্যবসার সঙ্গে এখন অনেক মানুষ জড়িত। ঘোলের জন্য বিভিন্ন এলাকায়া থেকে পাইকার আসছেন। এখান থেকে ঘোল পাইকারি দরে কিনে নিয়ে ব্যাবসা করে সমৃদ্ধ হচ্ছেন। এ বছর এই সলপের ঘোল ১০১ বছর পূর্ণ করবে বলেও তিনি জানান।

এই ঘোলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের প্রথম শুক্রবারে উপজেলার সলপে ঘোল উৎসবের আয়োজন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর