পাবনার ঈশ্বরদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনিরা আক্তার আন্নি (২৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১০ টার সময় উপজেলার বহরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মোঃ পারভেজ পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত মনিরা আক্তার আন্নি পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার মোঃ মহিদুল ইসলাম এর মেয়ে এবং স্বামী মোঃ পারভেজ পার্শ্ববর্তী বস্তিপাড়া এলাকার সিএনজি চালক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত আট বছর আগে পারিবারিকভাবে এই মনিরা আক্তার আন্নির বিয়ে হয় নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রবাসী মোঃ মামুন নামে এক ছেলের সঙ্গে। সেই ঘরে তার তিনটি সন্তানও রয়েছে। পরে ফেসবুক এবং টিকটক এর মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ড (বস্তিপাড়া) এলাকার পারভেজ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মনিরা আক্তার আন্নির। সর্বশেষ তিন মাস আগে মনিরা আক্তার আন্নি তার ছোট মেয়ে মোছাঃ মোছাঃ মরিয়ম খাতুনকে (৬) নিয়ে পালিয়ে এসে প্রেমিক পারভেজকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা দাশুড়িয়ার বহরপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে ছিলেন। প্রথম স্বামী মামুন মনির আক্তার আন্নি ও তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এর জন্য ডিপিএস করে ৯ লাখ টাকা রেখেছিলেন। সেই টাকা তুলে নিয়ে আসার জন্য দ্বিতীয় স্বামী পারভেজ মনিরা আক্তার আন্নিকে প্রচন্ড চাপ দিতে থাকলে সেই টাকা তুলতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল সেই টাকা নিয়ে ঝগড়া ও মারধর করে এবং মনিরা আক্তার আন্নিকে জোরপূর্বক ভাবে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে শয়নকক্ষে আটকে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী পারভেজ। পরে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ব্যাপারে মনিরা আক্তার আন্নির ছোট ভাই মোঃ ইমন হোসেন বলেন, আমার বোন দ্বিতীয় বিয়ের পর তার সঙ্গে আমাদের তেমন কোন যোগাযোগ ছিলো না। তবে জানতে পারতাম আমার বোনকে টাকার জন্য মাঝেমধ্যেই মারধর করা হতো। সেই একই জের ধরে আজকে এ ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে আমি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। ভাড়াবাসার দায়িত্বরত নৈশপ্রহরী মোঃ রবিউল ইসলাম রবি বলেন, আমি সন্ধার পর এসে জানতে পারি মনিরা আক্তার আন্নিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে স্থানীয় লোকজন। তবে এমন ঘটনা খুবই্ দুঃখজনক। ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়েটির ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।