সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের ভারুয়াখালীতে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার সময় ভারুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভারুয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আবুল কাশেম জয় এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিমন-এর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। তারা ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময় সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা আমিনুল ইসলাম, সাজ্জাদ, সোহেল রানা সহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এখন তাদের সাথে আওমীলীগের কিছু নেতাকর্মী যোগদান করে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুব দ্রুততার সাথে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে সরকারি প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার পর এটিই ছিল ওই এলাকায় তাদের প্রথম বড় কোনো জমায়েত।
উল্লেখ্য যে, গত অক্টোবর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আইনত নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল বা সভা-সমাবেশ দণ্ডনীয় অপরাধ।
শহীদ মিনারের মতো রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।