নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবসের অন্যতম প্রধান ঘোষণা ছিল—পবিত্র রমজান মাসে সেহেরি, তারাবির ও ইফতারের সময় কোনোভাবেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশনার প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো কক্সবাজারের ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস। রমজানের প্রথম সেহেরিতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি দানা বাঁধছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ঘটনার পর থেকেই ঈদগাঁও জোনাল অফিসের বর্তমান ডিজিএম রাজন দাশকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। জানা গেছে, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি নিয়োগ পান এবং বর্তমানেও একই পদে বহাল রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পরও প্রথম সেহেরিতে এমন বিভ্রাট ঘটায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল কারিগরি ত্রুটি, নাকি বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার কোনো সুগভীর ষড়যন্ত্র?
সেহেরির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুকে ঈদগাঁও এলাকার সচেতন নাগরিক।
অনেকের দাবি, এটি পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারী কর্মকর্তাদের একটি পরিকল্পিত
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী সেহেরি ও ইফতারের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের কথা বলার পরও এমন বিভ্রাট ঘটানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “নতুন সরকারকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে।”
উপজেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি স্রেফ দায়িত্বে গাফিলতি নাকি সমন্বয়হীনতা, তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, যদি এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এর আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হিসেবে ৩৩ কেভি লাইনের কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হলেও, ডিজিএম রাজন দাশের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নিয়োগের সময়কাল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। স্থানীয় জনতা এই ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণের জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।