শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

ই-পেপার

আত্রাইয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনে ভাঙ্গনের মুখে অর্ধশতাধিক গ্রাম

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২, ৮:৪১ অপরাহ্ণ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই ও গুড় নদী থেকে নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙ্গনের মুখে পড়তে যাচ্ছে অর্ধশতাধিক গ্রাম ও শত শত হেক্টর কৃষি জমি। ভুক্তভোগী লোকজন এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাননি বলে জানা গেছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি ধমকীর শিকার হতে হচ্ছে এ সব অসহায় মানুষদের। অতি দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে গ্রাম ও কৃষি জমিগুলো বাঁচাতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নদীর তীরবর্তি পারমোহনঘোষ গ্রামের মৃত-মছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সোবহান বলেন, উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের রসুলপুর, জাতোপাড়া, ভোঁপাড়া ইউনিয়নের সদুপুর, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের জাতআমরুল জিয়ানীপাড়া, পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধুগুড়নই সাজিপাড়া, পাঁচুপুর উজানপাড়া, গুড়নই, শিকারপুর, বিশা ইউনিয়নের মথুরাবাটি, পারমোহনঘোষ, খালপাড়া, খাসখামার, মোহনঘোষ, ইসলামপুরসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম রয়েছে আত্রাই ও গুড় নদীর তীরে। শুধু গ্রামই নয় জেগে ওঠা তীরে রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের লিজ নেওয়া শত শত হেক্টর কৃষি জমিও। গ্রাম আর কৃষি জমি সংলগ্ন নদী থেকে সরকারের নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই জমি সংলগ্ন নদী থেকে অনেক গভীর করে বালু উত্তোলন করার কারণে ভেঙ্গে যাচ্ছে সেই সব জমি। এক সময় জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সঙ্গে গ্রামগুলোও বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ইজারাদারের লোকেরা তাদের ইচ্ছে মাফিক বালু উত্তোলন করছেন। আর এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে গেলেই সেই মহলের নানা রকম হুমকি-ধমকী দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জমি আর ঘর-বাড়ি হারানোর ভয়ে আমাদের চোখে ঘুম নেই।

বিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, যারা বালু উত্তোলনের ইজারা নিয়েছেন তাদেরকে আমি সরকারের নির্ধারিত স্থানে নিয়ম অনুসারে বালু উত্তোলন করার জন্য বলেছি। যদি তারা সেই নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করেন তাহলে আমার কাছে অভিযোগ দিলে আমি বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তবে ওই গ্রামের মানুষরা আমাকে বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন। আমি জমি কিংবা গ্রামের ক্ষতি হয় এমন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেছি। বালু মহলের ইজাদার আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমি সরকারের নিয়মানুসারে গুড় নদীর বালু মহল ইজারা নিয়েছি। আমার লোকজন নিয়ম মেনেই বালু উত্তোলন করছে। আমি দলীয় কোন ব্যক্তির নাম ভেঙ্গে কিংবা প্রভাবশালী কোন মহলের ইন্ধনেও বালু উত্তোলন করছি না। যদি নিয়মের বাহিরে কোন কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রশাসন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আমি তা মেনে নিবো।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, জনগনের ক্ষতি করে প্রশাসন কোন কাজই কখনো করবে না। বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতি হচ্ছে এমন বিষয় ওই এলাকা থেকে জানানোর পর আমি বালু উত্তোলনের স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে পাঠিয়েছিলাম। যারা বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন তারা নিয়ম মেনে সঠিক জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছে কিনা সেই বিষয়টি সব সময় মনিটরিং করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর