পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের (তরবিয়াত) সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আলী আছগার ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, মাওলানা আলী আছগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ‘ঘোড়া’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৭ ভোট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটার রয়েছেন, যাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৭৪টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় ছিল বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার এগিয়ে থেকে বিজয়ী হন।
উল্লেখ্য, পাবনা-৩ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসন হিসেবে বিবেচিত। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি এসব বিষয় আগামী দিনে নবনির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।