আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের কারণে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রায় ৮০ শতাংশ সাংবাদিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ‘নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নীতিমালা–২০১৫’ অনুযায়ী সাংবাদিকদের জন্য পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকার ইস্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পরিচয়পত্র, আইডি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, সদ্য তোলা ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নানা অজুহাতে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে না। অনেক আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোনো কোনো আবেদন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। এতে করে ভোটের মাঠে পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে চরম উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। পেশাগতভাবে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মফস্বলে কর্মরত হওয়ার কারণে তাদের আবেদন গ্রহণ না করাকে তারা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিকদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পর্যবেক্ষণ কার্ড না থাকলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহে বাধার মুখে পড়তে হবে, যা নির্বাচনকালীন স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুদ জানান, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তির পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ও নিয়ম মেনে আবেদনকারী সাংবাদিকদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে দ্রুত সব যোগ্য সাংবাদিককে পর্যবেক্ষণ কার্ড ইস্যুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে নির্বাচনকালে সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।