সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে হয়েও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি- আটোয়ারীতে বিএনপি নেতা নিপুন রায় চৌধুরী “প্রশাসনের কড়াকড়িতে স্বস্তি ভাঙ্গুড়ায়” দখলদার ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে বদলাচ্ছে চিত্র কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় দেবোত্তর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিবাদ বিক্ষোভ সলঙ্গায় ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে বিদ্যুৎস্পর্শে দিনমজুরের মৃত্যু নাগরপুরে ব্যাটমিন্টন ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে বান্দরবান পুলিশ সুপার গোপালপুরে বৈরাণ নদের হাটবৈরাণ ব্রিজ ঝুঁকির মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ আলীকদমে ম্রো ও ত্রিপুরায় সংঘর্ষে  ৬ জন আহত, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী

নাগরপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন; আসামি গ্রেফতার

ডা.এম.এ.মান্নান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২, ৮:৫১ অপরাহ্ণ

টাংগাইলের নাগরপুরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শফিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ।
নাগরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়াপাড়া কালভার্টেরনিচে অজ্ঞাত নামা যুবকের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেন। থানা পুলিশ অনুসন্ধান করে অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির পরিচয় বের করতে সমর্থ হয়। উক্ত লাশটি শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বলে সনাক্ত করা হয়।
মৃতের স্ত্রী মোছা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে এ সংক্রান্তে এজাহার দায়ের করলে নাগরপুর থানার মামলা নং ৮
১৯/০৭/২০২২ ধারা : পেনাল কোড ৩০২/৩৪/২০১ রুজু হয়।এজাহারে বাদী জানায় যে, তার স্বামী মৃত শফিকুল ইসলাম টুকটাক কৃষি কাজ করা ও জমি দেখাশোনার কাজ করতো।
গত ১৮/৭/২২ সকাল ৯ টার পর ডিসিস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তার আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়া পাড়া কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা তার
স্বামীকে হত্যা করে লাশ লুকানোর উদ্দেশ্যে কালভার্টের নিচে ফেলে গেছে মর্মে বাদী তার
এজাহারে উল্লেখ করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, তিনি উক্ত অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ করে ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও ম্যানুয়াল ইনটেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে তদন্তের মাধ্যমে নাগরপুর থানা পুলিশ এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস. এম. মনসুর মূসা জানান যে, মৃত শফিকুল ইসলাম কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় মোরশেদা আক্তার নামক এক মহিলার সাথে জোর পূর্বক শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোরশেদা
আক্তারের স্বামী প্রায় এক বছর যাবত বিদেশে থাকেন। গত ১৮/৫/২২ বিকেল ৫ টার দিকে শফিকুল আবারো মোরশেদার বাড়িতে যায়। উল্লেখ্য যে, ডিসিস্ট বিভিন্ন রোগে ভুগছিলো এবং অসুস্থ ছিলো। বাড়িতে তখন কেউ ছিলো না। শফিকুল মোরশেদার সাথে সেদিনও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। মোরশেদা বাধা দিলে টিউবওয়েলের পাড়ে তাদের মাঝে ধস্তাধস্থি হয়। মোরশেদা এক পর্যায়ে শফিকুলের মুখকাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখে ও টিউবওয়েলের মেঝেতে আঘাত করে। ভিকটিমের মৃত্যু ঘটলে পাশের টয়লেটের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে। মোরশেদা বিষয়টি তার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে জানায়। তারা লাশ লুকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে লাশ কেচ টের বস্তায় ভরে বারেকের অটোরিক্সাতে করে এনে উল্লিখিত কাল ভার্টের নিচে ফেলে দিয়ে যায়।
 এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, ১৯/৭/২২ তারিখে রাত ১১ টার দিকে এসআই মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নাগরপুর থানার একটি দল হত্যাকান্ডে জড়িত মোরশেদা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে।
 গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নাগরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনোয়ার হোসেন  মুঠোফোনে জানান, হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্ট আলামত অটো গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপর দুই আসামী  বারেক ও ফুলচানকে গ্রেফতার করে জবানবন্দির জন্য বৃহস্পতিবার(২১ জুলাই) টাংগাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর