রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

অভয়নগরে স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য করে ৩৭লাখ টাকা হাওয়া

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিহাটি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪জন কে ৩৭লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয় ব্যক্তিরা ও অভিভাবকরা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৫ বছরেও আমাদের ঐ স্কুলে কোন উন্নয়ন হয়নি, যে জন্য স্থানীয়রা অনেক আশা করে ছিলো ৪জন ব্যক্তিকে নিয়োগের মাধ্যমে যদি কিছু অর্থ আসে তা স্কুল উন্নয়নে কাজে লাগালে ছেলে মেয়েরা সুন্দর পরিবেশে লেখা পড়া করতে পারবে। কিন্তু রাঘব বোয়ালের থাবায় সে আশা ভরসা শেষ। ঐ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রশান্ত মন্ডলের ছোট ভাই শুকুমার মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক শিরিষ হালদার আমার কাছে সাত লাখ টাকা চেয়েছিল। পরে আমার ভাইপো রনিকে বেশি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে। আর এক ভূক্তভোগী ঐ স্কুলের প্রতিষ্টাতা সদস্য পাগল চাঁদ মন্ডল বলেন, আমার বউমাকে চাকরি আয়া পদে চাকরি দিতে ৭ লাখ টাকা চেয়েছিল, আমি দিতেও চেয়েছিলাম কিন্ত সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অন‍্য প্রার্থীর নিকট থেকে টাকা বেশি পেয়ে আমার বউমাকে চাকরি দিলনা। প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই শুকুমার হালদার বলেন, স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্বপন কুমার মিলে ঐ সব টাকা উপরে রাঘব বোয়ালদের কিছু দিয়েছে ও বাকি টাকা নিজেরা খেয়ে ফেলেছে। নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ না দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে বেশি টাকা পেয়ে নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতি করে চলেছে, এগুলো দেখার কেউ নেই। স্কুলের অভিভাবক সদস্য রাজিব মন্ডল বলেন, স্কুলের কোন উন্নয়ন হয়না, মাঠে কাঁদা পানিতে ভরা স্কুল ভবনটি ক্ষতিগ্রস্থ, মেরামত করেনা। সরকারি কোন বরাদ্দ এলেও সভাপতি প্রধান শিক্ষকসহ উপর মহল ম্যানেজ করে এরা খেয়ে ফেলে। নিয়োগ দিয়ে ৩৭ লাখ টাকাও রাঘব বোয়ালের পকেটে। আমরা সচেতন নাগরিক এর সঠিক তদন্ত পূর্বক বিচার চাই। সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলটি উন্নয়নের ছোঁয়ার মুখ দীর্ঘদিন দেখেনি। স্কুল মাঠে পানি কাঁদাতে ভরপুর। এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল নিয়োগ বাণিজ্যের দুর্নীতি সহ সকল অপকর্মের হোতাকে তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করেন।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক শিরিষ হালদার বলেন, নিয়োগের টাকা আমি খাইনি। ৪ জন ব্যক্তি থেকে নিয়োগের যে টাকা পাওয়া গেছে তার সব উপর মহল খেয়ে ফেলেছে, আপনারা তাদের ধরেন, আমি একটি টাকাও পাইনি বরং নিয়োগ চলাকালীন আমি খুবই অসহায় ছিলাম, আমার মুখ খুলার কোন পথ ছিলনা। তাই আমাকে কিছু বলে লাভ নেই। এলাকার মানুষ তাকেই দায়ী করছেন কেন? জানতে চাইলে যে যা বলুক তাতে আমার কিছু হবেনা। তিনি দাম্ভিকের সাথে বলেন, এসব নিউজ টিউজ করে কোন লাভ নেই, আমার কিছু হবেনা।
এবিষয়ে স্কুলের সভাপতি প্রশান্ত মন্ডলের কাছে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা ঘুরিয়ে বিভিন্ন অজুহাত মূল্ক কথা বলেন, তিনি বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে এড়িয়ে যান। ডহর মশিহাটি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন,নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর