বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
নির্বাচন সামনে রেখে গোপালপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, উপজেলা প্রশাসনের জরুরী মিটিং  গোপালপুরে সেচ মিটার চুরি সদস্য আটক করেছি জনতা- বোরো চাষ হুমকিতে, চোর চক্রের বিরুদ্ধে কৃষকদের ক্ষোভ শওকত মোমেন শাহজাহানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন নাজমুল হাসান ব্যস্ত নওয়াপাড়ার অদেখা দখলচিত্র ফুটপাথ থেকে রেললাইন, নূরবাগ এলাকায় ভাড়া নিচ্ছে কে? ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবন, স্মৃতিতে অমলিন, অশ্রুসজল বিদায়ে বিদায় নিলেন শিক্ষক শ্রীদাম চন্দ্র দাস রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার আটঘরিয়ায় মহিলা দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সহিংসতা প্রতিরোধে রাজশাহীতে ব্লাস্ট ও লফসের জেন্ডার সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

হাতুড়ি ও অস্ত্রে¿র একাধিক আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে রাশিদার হত্যা নিশ্চিত করে ঘাতকরা

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:২৪ অপরাহ্ণ

বন্ধুদের সাহায্যে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংশভাবে স্ত্রী রাশিদা বেগমকে হত্যার পর দশ মাস বয়সী ছেলেকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক স্বামী তামিম শেখ।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আদালতে মামলার প্রধান আসামী তামিম শেখ, তার বন্ধু রুবেল দাড়িয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘাতক তামিমের অপর বন্ধু মাহেন্দ্র চালক জুলহাস শেখ আদালতে হত্যার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার না করলেও তামিম ও রুবেল এর দেয়া স্বীকারোক্তিতে জুলহাস শেখ এর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
২২ জানুয়ারি বরিশাল আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মনিরুজ্জামানের আদালতে রাশিদা হত্যার বর্ণনা দিয়েছে জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের নথির বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান- রাশিদার স্বামী আদালতে স্ত্রী হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতকে জানিয়েছে- তিন বছর আগে রাশিদার সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ের পরে রাশিদার গর্ভে তানিম জন্ম নেয়। রাশিদার চারিত্রিক ত্রুটির কারণে বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি। রাশিদার মোবাইলে কাজের প্রমানও রয়েছে। তাই রাশিদার সাথে আর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে তামিম।
তামিম জানায়, আমার বন্ধু রুবেল ওরফে রুবেল দাড়িয়াকে স্ত্রী রাশিদার চরিত্রর বিষয়ে জানিয়ে হত্যার জন্য তাকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টি অবহিত করি। রুবেল আমার কথায় রাজি হয়।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি ১৯ জানুয়ারি রাশিদােেক গোপালগঞ্জ আসতে বলি। রাশিদা দুপুরে আমার সন্তান তানিমসহ গোপালগঞ্জ এলে শহরের আবাসিক হোটেল রোহান এর ২০৭ নম্বর কক্ষে উঠি।
রাতে পূর্ব পরিচিত মাহিন্দ্র গাড়ির চালক জুলহাস শেখ ও রুবেলকে হোটেলের নীচে আসতে বলি। ওরা হোটেলের নীচে আসে। রুবেল মাহিন্দ্র গাড়িতে হাতুড়ি ও ধারালো চাকু রাখে। পরে রাশিদা ও সন্তানকে নিয়ে হোটেলের নীচে অবস্থান করা বন্ধু জুলহাসের মাহিন্দ্রতে করে রাত ১০টার দিকে ঠুটামান্দ্রা গ্রামের বিলের মধ্যে যাই।
আশপাশে ঘরবাড়ি ও লোকজন না থাকায় সেখানে মাহিন্দ্র থামায়। আমি হাতুড়ি দিয়ে রাশিদার মাথায় এবং দুই পায়ে একাধিক আঘাত করি। রাশিদার মাথা দিয়ে তখন রক্ত ঝরছিলো। এসময় রুবেল তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে রাশিদার মুখে, মাথায় ও গলায় আঘাত করে। রাশিদা মাটিতে লুটিয়ে পাড়লে জুলহাস মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ওই রাতেই ১১টার দিকে রাশিদার মৃতদেহ জুলহাসের মাহিন্দ্রতে নিয়ে রাশিদার আগৈলঝাড়ার ভাড়া বাসার পাশে পাকা রাস্তার উপর ফেলে রাখি। তানিমকে রাস্তার পাশে একজন লোকের বাড়ির আঙ্গিনায় রেখে আসি। তারপরে আমরা যে যার মতো করে নিজেদের বাড়ি ফিরে যাই।
একই আদালতে একই দিন হত্যাকারী রুবেল দাড়িয়াও রাশিদাকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ঘাতক স্বামী তামিম শেখ ও জুলহাসের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে তামিম শেখের মতো প্রায় অভিন্ন বর্ণনা দেয়।
ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইমলাম আরও জানান, দাম্পত্য কলহের জের ধরে রাশিদাকে হত্যা করা হয়। রাশিদা বিদেশ থেকে ফিরলে তিন বছর আগে তামিমের সাথে বিয়ে হয়। নিহত রাশিদার এটা দ্বিতীয় বিয়ে এবং ঘাতক স্বামী তামিমেরও দ্বিতীয় বিয়ে। তামিমের আগের ঘরে দুটি ছেলে রয়েছে, রাশিদারও আগের ঘরে দুটি ছেলে রয়েছে। রাশিদা-তামিমের ১০ মাস বয়সী তানিম নামের ঐরসজাত একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রাশিদা বিয়ের পরে আগৈলঝাড়া উপজেলার ১নং ব্রীজ সংলগ্ন এলকায় শিশু পুত্রসহ তিন পুত্রকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকত।
ঘাতক স্বামী গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার বেতগ্রামের আনোয়ার শেখ এর ছেলে তামিম শেখ (৪২), তামিমের বন্ধু কোটালীপাড়া থানার তারাশি গ্রামের ইদ্রিস দাড়িয়ার ছেলে রুবেল দাড়িয়া (৩৫) ও বেতগ্রামের মৃত সালাম শেখের ছেলে মাহেন্দ্র চালক জুলহাস শেখ (৪২)।
প্রসঙ্গত স্থানীয়দের খবরের ভিতিত্তে ১৯ জানুয়ারী গভীর রাতে উপজেলার বাইপাস মহাসড়ক এলাকা থেকে রাশিদার রক্তাক্ত লাশ ও তার শিশু সন্তানকে উদ্ধার করা হয়। এরপরই পুলিশ রাশিদার স্বামী তামিমের বাড়ি গোপালগঞ্জের বেতগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে রক্তমাখা পোশাকসহ আটক করে। এরপরই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে তামিমের বন্ধু রুবেল ও জুলহাসকে গোপালগঞ্জের পৃথক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, রক্তমাখা জামা-কাপড়, মাহিন্দ্র গাড়ি ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় আসামীদের গ্রেফতার দেখিয়ে গত ২১ জানুয়ারী আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর