মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন” জিন্দানী ব্লাড ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পনে রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বিএনসিসির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “বিএনসিসি ডে” উদযাপিত রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’

৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবন, স্মৃতিতে অমলিন, অশ্রুসজল বিদায়ে বিদায় নিলেন শিক্ষক শ্রীদাম চন্দ্র দাস

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সঙ্গে শিক্ষাদানের পর অবসরজনিত বিদায়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীদাম চন্দ্র দাসের বিদায় সংবর্ধনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অত্র বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি), শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপ কুমার সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজিদা হক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীদাম চন্দ্র দাস কেবল একজন শিক্ষক নন তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, সহকর্মীদের পথপ্রদর্শক ও বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার মূল প্রেরণা। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে।
শ্রীদাম চন্দ্র দাস ১৯৯০ সালে শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকেন। ১৯৯৮ সালে তিনি গোলাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন এবং ২০০৪ সালে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ৮ মাস ৫ দিন শিক্ষকতা শেষে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে ২০০৯ সালে গোলাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সারা বাংলাদেশের মধ্যে ফলাফলের ভিত্তিতে ১৯তম স্থান অর্জন করে এবং সে বছর বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়—যা আজও এলাকাবাসীর জন্য গর্বের স্মারক। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং  উপজেলা  পর্যায়ে জেলা শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। স্কাউটিং সম্প্রসারণে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি স্কাউটিংয়ে উডব্যাজ অর্জন করেন এবং কাব স্কাউট আন্দোলন বিস্তারে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনে শ্রীদাম চন্দ্র দাস ১৯৮৩ সালে গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরর্বতীতে  বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হলে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। বিদায়ী বক্তব্যে শ্রীদাম চন্দ্র দাস সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসর জীবন কামনা করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতাগন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর