শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে মা হারা দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও 

সাজিদ হাসান শান্ত, শ্রীবরদী প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

দুই সন্তানকে নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদীতে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে তাদের পিতা শহীদুল ইসলাম। শিশু দুইটির মা হঠাৎ আড়াই বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর থেকে কুড়িকাহনিয়া বাজারে ইউনিয়ন কৃষি অফিসের পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ের একটি রুমে শহীদুল তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন। শহীদুল পেশায় হোটেল শ্রমিক। লকডাউনের কারণে হোটেল বন্ধ থাকায় অনেক সময় না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের।
গত কয়েকদিন আগে কুড়িকাহনিয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় তাদেরকে দেখতে পান শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি দেখে সবাই চলে গেলেও তারা সেখানেই বসে আছে। এ সময় ইউএনও গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে দুরাবস্থার কথা জানতে পারেন।
পরে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) তাদের জন্য খাদ্য সামগ্রী, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে হাজির হন ইউএনও নিলুফা আক্তার।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহীদুল ইসলামের স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার কয়েক বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শারীরিকভাবে অসুস্থ শহীদুল। শহীদুলের মায়ের একমাত্র ভিটেবাড়িতে একটি টিনের ঘর আছে। কিন্তু সেটি বসবাসের অনুপযোগি হওয়ায় কুড়িকাহনিয়া বাজারে কৃষি অফিসের পরিত্যক্ত বিল্ডিং এ দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে। কাজের জন্য হোটেলে গেলে পরিবারের অন্য কোন সদস্য না থাকায় দুই বোন বাড়িতেই থাকে। কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে আবার তাদের জন্য রান্না করে শহীদুল। এখন বাবা-মা দুজনেরই দায়িত্ব পালন করছেন পিতা শহীদুল।
বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন ইউএনও নিলুফা আক্তার। আজ দুপুরে খাদ্য সামগ্রী, নগদ টাকা ও শিশুদের জন্য ঈদের পোশাক নিয়ে হাজির হোন ইউএনও নিলুফা আক্তার। ইউএনওকে দেখে শহীদুল ও তার দুই সন্তান খুবই খুশি। স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ইউএনওর মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক কাজের প্রশংসা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িকাহনীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার বলেন, লকডাউনে তদারকি করতে গিয়ে জানতে পারি মা হারা দুই শিশু সন্তান নিয়ে খুবই অসহায়ভাবে দিন কাটছে শহীদুলের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের একটি রুমে বসবাস করছে। প্রাথমিকভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও ঈদের পোশাক দিয়েছি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে তাদের ঘরের জন্য টিন, টাকাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, মাতৃহারা শিশু পাশে দাঁড়াতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। ভবিষ্যতেও ছিন্নমূল, অসহায় পরিবারের মাঝে এই ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর