শেরপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের ৭ম দিনে মাঠে কঠোর অবস্থানে ছিল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তা-সদস্যরা। জেলায় ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে শক্তিশালী জেলা পুলিশের সঙ্গে আছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হোটেল-রেস্তোরাঁ, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া শহরের সব দোকানপাট বন্ধ থাকলেও গ্রাম্য বাজারে ও রাস্তা ঘাটে বেড়েছে জনচলাচল।
৭ই জুলাই বুধবার সকাল থেকেই শেরপুর জেলা শহরসহ উপজেলা সদরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় বসানো চেকপোস্টগুলোতে তৎপর থাকে দায়িত্বরত সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন রাস্তাঘাটে মাস্ক ছাড়া ও অযথা ঘুরাফেরা করা লোকজনকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ও স্বেচ্চাসেবী সদস্য সহ গাড়ি টহল দিচ্ছে সড়কে। যারা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বের হয়েছেন তাদের অনেককে জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।
শেরপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানা জায় এদিকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাফেরা ও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক ১৮টি টিমের মোট ১৭৩টি অভিযানে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। গত ৬ দিনে জেলায় মোট ৫ লাখ ৮হাজার ৮শত ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে জেলা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মিজানুর রহমান আমাদের জানান, লকডাউনের ৭ম দিনে নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নিষিদ্ধ পলিথিনসহ অন্যান্য সামগ্রী রাখার দায়ে জেলা শহরের নয়ানীবাজারে এক প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ভীমগঞ্জ বাজারে এক দোকানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং নালিতাবাড়ীতে স্থানীয় নয়ানিকান্দা গরুর হাট পরিচালনার দায়ে ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ওই দুটি ঘটনাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক ১৮টি টিমের মোট ১৭৩টি অভিযানে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
#চলনবিলের আলো / আপন