মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

ই-পেপার

বৈষম্যের গ্যাড়াকলে আত্রাইয়ের নারী শ্রমিক

মো:রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ)প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১, ৬:১৫ অপরাহ্ণ

কৃষি পণ্যের ভান্ডারখ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলা অঞ্চল। এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় দিন দিন কৃষি শ্রমিক হিসেবে নারী শ্রমিকরা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু কৃষি শ্রমিক হিসেবেই নয়, গৃহস্থালী, রাস্তায় মাটি কাটা ও গৃহ নির্মাণ কাজে জোগারদার হিসেবে বিভিন্ন কাজে নারীদের অংশগ্রহণমূলক কাজের পরিধি বর্তমানে চোখে পড়ার মতো। তারা তাদের শ্রম দিয়ে দেশ তথা জাতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য জোড় চেষ্টা করছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তারা তাদের শ্রম যথাযথভাবে প্রয়োগ করার পরও নায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের দেশ হাজার হাজার বছর এর পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার নিয়ম কানুনের গ্যাড়াকলে নিপাতিত হয়ে আসছেন বা আটকে আছে নারীরা। এ নিয়মে সন্তান ধারণ লালন পালন ও গৃহস্থালীর কাজ, ঘর সামাল দিয়ে নারীকে এগিয়ে চলতে হয় প্রতিনিয়ত। তারপরও নারীকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় পদে পদে। ঘরের কাজে যেমন স্বীকৃতি নেই তেমনি বাহিরের কাজের দেওয়া হচ্ছে কম মজুরি। মুখে সমাজে সমান অধিকার বললেও সমান অধিকার পাচ্ছেন না নারীরা। দেশে নারী শ্রমিকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শুধু গার্মেন্টস নারী শ্রমিকদের দেখে এ ধারণা নয়। নারী শ্রমিকদের অধিকাংশ কৃষি কাজে নিয়োজিত তাছাড়া আদিবাসী সব শ্রমিকই নারী এর চরিত্র আবহমানকালের।

 

বাস্তবে দেখা গেছে, সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়েও বেশি কাজ করেও মজুরি বৈষম্যের গ্যাড়াকলে হাবুডুবু খাচ্ছে। এতে তাদের কোন অভিযোগ নেই। তরা শুধু প্রতিনিয়ত কাজ চায় বেঁচে থাকার জন্য। তাদের মধ্যে রয়েছে শুধু বুক ভরা দুঃখ আর হতাশা। সব মিলিয়ে জীবনযুদ্ধে নারীদের নিবেদিত এক বলিষ্ঠ যোদ্ধার জীবর্দশায় আপোষহীণ সংগ্রামের চিত্র দৃশ্যমান হচ্ছে পুরো আত্রাই উপজেরা অঞ্চলে। কোমলমতি নারীরা তাদের হাত দিয়ে কৃষি কাজে অধিক ফসল ফলানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। ভোর রাতে ঘুম থেকে উঠে সংসারের সব কাজ সেরে তারা পৌঁছে যায় তাদের অন্য কর্মস্থলে। ঠিকমতো খাওয়ার ও বিশ্রামের সময় নেই। জীবন জীবিকার তাগিদে বেঁচে থাকার জন্য তারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নারী শ্রমিক অধিকাংশই কৃষি কাজে বিভিন্ন অঙ্গনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন। কথা হয় মাঠে আলু ক্ষেতে আলু তোলার কাজে নিয়োজিত উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আমেনা, আসমা, ছকিনা এবং রাস্তায় মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত ময়না ও মোরশেদার সাথে।

 

তারা সকলেই বলেন, এতো পরিশ্রমের পরও নারীরা কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একজন পুরুষ শ্রমিক সারাদিন কাজ করে প্রতিদিন মজুরি পাচ্ছেন ৩০০-৪০০ টাকা হিসেবে। অপরদিকে নারীরা সারাদিন কাজ করে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান। এ টাকা দিয়ে তারা অতি কষ্টে তাদের সংসার চালান। তারা শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা সমাজে অবহেলিত অবস্থায় দারিদ্রের কষাঘাতে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন, সাধনা, আশা-আকাক্সখা। একই কাজ করে নারীরা পুরুষের অর্ধেক মজুরি পাচ্ছে। তাও আবার কাজ না পাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করার কোন সাহস তাদের নেই। আরও জানা যায়, এসব নারীদের বেশিরভাগ স্বামী পরিতক্তা ও বিধবা। আবার কেও কেও অধিক সন্তানের জননী। অবাবের তাড়নায় তারা এ পেশাকে জীবনে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নারীদের অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এসব নারীদের নিয়ে সমাজে দেশি-বিদেশি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সমাজে ভদ্রলোকদের কোনও মাথা ব্যথা নেই। নারী শ্রকিরা আরোও জানান, নিতান্তই ক্ষুদার জ্বালা মিটানোর জন্য তারা এ পেশাকে বেছে নিয়েছেন। কাজ পাবেনা এ ভয়ে তারা মালিকদের মজুরি বেশি দেওয়ার কথা বলতে সাহস পায় না।

 

#CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর