খাগড়াছড়িররামগড়েগলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তার নাম নাইমুল হাসান মিশন।সেমানসিকভাবেঅসুস্থ্যছিলো বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন।সেখাগড়াছড়ির রামগড়ের ফেনীর কুল এলাকার সেনাবাহিনীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল উদ্দীনের বড় ছেলে। আজ শনিবার (৬ই মার্চ) সকালে তার শয়নকক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যরা তার জুলন্তমরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান , রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরেনমিশন।রাতের খাবার খেয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যায় সে। সকালে তার কক্ষের দরজা না খোলায় তার ছোট ভাই জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে মিশনকে ফ্যানের সাথে জুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।পরে দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নামিয়ে আনে। এদিকে, মিশনের রুম থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে; যেখানে তিনি লিখেছেন, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।আমার বেঁচে থাকার জন্য কোন ইচ্ছে নেই।
তাই আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।ডারউইন বলেছিলেন”Survival for fittest. but i not even fit”.আমার জন্য কেউ কখনো কষ্ট পেয়ে থাকেন পারলে মাফ করে দিয়েন।আম্মু আমাকে মাফ করে দিয়েন। লিমনের(ছোট ভাই)খেয়াল রাখিয়েন।আব্বু আমাকে সফল করার জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন।আমিপারিনি।তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী।এ দুনিয়া আমার জন্য না সবাই পারলে আমাকে মাফ করে দিবেন।বিদায়”। মিশনের পরিবারের সদস্যরা জানান, মিশন মানসিকভাব অসুস্থ ছিল। বেশ কয়েকবার চিকিৎসাওকরানোহয়।সে দীর্ঘ দিন ধরে বিষন্নতা এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তবে আজ তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল। এদিকে, মিশনের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পুরো এলাকায়। সে খুবই মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলো।পিএসসি,জেএসসি,এসএসসি এবং এইচ এস সিতেজিপিএ ৫ পেয়েছিলো।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর থেকে সে বিষন্নতায় এবং হতাশায় ভুগতে থাকে। রামগড় থানার এস আই অজয় চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,নিহত শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ্যছিলো বলে তার পরিবার জানায়।তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি প্রেরণ করা হবে।
CBALO/আপন ইসলাম