কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের গ্রামীন জনপদগুলি বেহাল দশা। রাস্তাগুলিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কাদা হয়ে যাওয়ার চলাচলের চরম দুর্ভোগে পড়ে উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ। বর্ষাকালে গ্রামীণ সড়কে চলাচলে পথচারীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং কৃষককদের উৎপাদিত পন্য পরিবহণে দুর্ভোগে পড়তে হয় এই এলাকার মানুষকে। রাস্তায় কাঁদা পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হওয়ায় এলাকাবাসী সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়ে অসুস্থ্য মানুষকে নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলি পাকাকরণ এবং সংস্কারে সরকারী উদ্যোগ গ্রহণ না করায় নিরুপায় হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এলাকাবাসী।
উপজেলায় মোট ৯৮০কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এরমধ্যে ২৫৫কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলি পাকাকরণের আশ্বাস দিয়ে আসলেও বাস্তবায়ণে কোন পদক্ষেপ নেই বলে দাবি করে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, মোহনপুর ইউনিয়নের কাঁচা সড়কগুলির বেহাল দশা। সড়কগুলি পাকাকরণ এবং সংস্কার না করার ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাগুলি কাঁদাপরিপূর্ন হয়ে যায়। এতে এই এলাকার মানুষকে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে।
এ ব্যাপারে ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামের মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা খুবই অবহেলিত আছি। এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে আমাদের হাঁটু কাঁদায় চলতে হয়। সরকার গ্রামকে শহরে করার কথা ঘোষণা করলেও আমরা অবহেলিত আছি। অনেকবার আবেদন করার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে রাস্তার মাপযোগ এবং পরিদশর্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করা হয়নি।
উপজেলার কম-বেশি ব্রিজ কালভার্টের উন্নয়ন হলেও অবহেলিত রয়ে গেছে গ্রামীন সড়কগুলি। যার কারণে চলাচলের জন্য দূর্ভোগে রয়েছেন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংষ্কারসহ পাকাকরণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জিবরীল আহমেদ বলেন, গ্রামীণ সড়কগুলি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।