সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের কাজিডাঙ্গা গ্রামে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে মারাত্মক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, তালার কাজিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাতক্ষীরা ডিসি অফিসের নাইট গার্ড জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার স্ত্রী, পরোকীয়া প্রেমিকসহ কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মক যখন করেছেন।
এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠান। জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে ন্যায্য বিচারের আশায় সাতক্ষীরা আমলী আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটা মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার স্ত্রী,পরকীয়া প্রেমিক, শ্যালক সহ সংঘবদ্ধকারীরা হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যার জন্য বিজ্ঞ আদালতে ১০ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি রাতে সাতক্ষীরা ডিসি অফিসের নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করি। আমি বাড়িতে না থাকার কারনে আমিনুর,মাসুমসহ কয়েক জন ব্যক্তির সাথে আমার স্ত্রী পরোকীয়া করে। আমি বিষয়টি জানতে পারি। আমার স্ত্রীকে এমন কু-কর্ম পরিত্যাগ করার জন্য বুঝাই তাতে কোন ফল হয়নি। উপরন্ত সে আমার উপরে চড়াও হয়। তার ভাইসহ তার বাবার বাড়ির লোকজন আমার বিরুদ্ধে লেলাইয়া দেয় আমাকে উল্টো শাসন করার জন্য।
আমি এসব বিষয় আমার শশুর বাড়ির লোকজনকে জানাইলে তারা আদরের মেয়েকে শাসন করা তো দুরের কথা উল্টা আমাকে ধমকায়। আমার চাচা শশুরাও আমাকে ধমকায় । তবে আমার নিজ শশুর আজবুঝ প্রকৃতির।আমার শ্যালক বেকার মাস্তান প্রকৃতির। তা ছাড়া আমার স্ত্রী আমার বাড়ী থেকে মাসুম গাজী, সাজ্জাত মুন্সী, আবু সাইদ এর সাথে দেহ ব্যবসা করে আমার শাশুড়ীকে যে টাকা দেয় তা দিয়ে আমার শাশুড়ী সংসার চালায়। তা ছাড়া আমার বাড়ীতে আমার ক্রয়কৃত চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি তার মাকে দেয় এবং আবার পরবর্তীতে আমাকে দিয়ে কিনে নেই। আমার স্ত্রী এতই অসৎ প্রকৃতির যে কিছুদিন পূর্বে আমি অসুস্থ হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আমার সাথে থাকা কালে ২নং বিবাদী মাসুম গাজীর সাথে পরোকীয়া করে যা আমি হাতে নাতে ধরে ফেলি।
এজন্য গত ফেব্রুয়ারী মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সাংসারিক বিষয় নিয়া কথাকাটি হয়।এসময় আমার স্ত্রী বাবার বাড়ি আমার বড় ছেলে মোঃ রিয়াদ হোসেন (১৬) কে নিয়ে শাহাপুরে চলিয়া যায়। ছোট ছেলে মোঃ রিসাদ হোসেন (১১) কে আমার বাড়িতে রাখিয়া যায়।
সেই অবধি আমার বাড়িতে আর আসে নাই। আমি বার বার বাড়ী আসার কথা বলিলেও আজ অবধি আসেনি সে। পরোকীয়া প্রেমিকদের দ্বারা আমাকে খুন জখম করার পরিকল্পনা করতে থাকে।
যার ফলে আমাকে রাস্তায় পেয়ে বেধড়ক মারধর করে তারা। একারনে আমি বাধ্য হয়ে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছি। যে কোন মুহুর্তে আমার তালাকপ্রপ্ত স্ত্রী নাজমীম নাহার ও তার পরকীয়া প্রেমিকদের দ্বারা আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে।
ভুক্তভোগি জাহাঙ্গীর আরও বলেন,আমার জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। সর্বশেষ আমি আদালতের আশ্রায় নিয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন এর স্ত্রীসহ এজহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।