ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের নরসুন্দা নদ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর মৃত অবস্থায় কামালপুর গ্রামের মৃত গোলাপ মিয়ার পুত্র সুরুজ মিয়া (১৯) লাশ নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। অপরদিকে একই ঘটনায় ভৈরব নৌ পুলিশ ফাঁড়ি আরও একটি অপমৃত্যু মামলা নথিভূক্ত করা হয়। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর থেকে এলাকার লোকজন এবং নিহতের মা মোঃ হালিমা ও ভাই মোহাম্মদ জয় এটাকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করে আসছিল। পরবর্তী সময়ে নিহত সুরুজ মিয়ার আপন ভাই মোহাম্মদ জয় বাদী হয়ে জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯নং আমলী আদালতে বাংলাদেশ দন্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারা মোতাবেক একই এলাকার মোঃ রফিক মিয়ার পুত্র আবু সায়েম, আঃ রহিমের পুত্র ওয়াসিম, বাচ্চু মিয়ার পুত্র শফিক মিয়া সর্ব সাং কামালপুর ও মুশুলী গ্রামের ফারুক মিয়ার পুত্র বাবু মিয়া সহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি যথাযথ নথিভূক্ত করে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট তলব করেছেন। উক্ত নিমর্ম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পরিবারের পক্ষ থেকে কামালপুর গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সুরুজ মিয়াকে নিমর্মভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয় বলে দাবী করেছেন। নিহত সুরুজের মা মোনসেদা খাতুন ওরফে হালিমা সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে তার পুত্র হত্যার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আসামীদের আইনের আওতায় আনার জোরদাবী জানিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকার শতাধিক গ্রামবাসী নিরীহ যুবক সুরুজ মিয়ার হত্যা রহস্য উৎঘাটন সহ আসামীদের গ্রেফতারের জোরদাবী জানান।