যশোরের অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা, প্রেমের টানাপোড়েন থেকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু।
প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়ে অপমানিত হয়ে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া যুবক অন্তর বিশ্বাস (৩০) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের সাগর বিশ্বাসের ছেলে অন্তর বিশ্বাসের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিলের মেয়ে রোকাইয়ার। পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই সম্পর্কের পরিণতি টানতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন অন্তর। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকজনের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অন্তর। সেদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দগ্ধের মাত্রা বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার এসআই ফিরোজ জানান, যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রেমঘটিত বিরোধ ও সামাজিক অপমানের মতো বিষয়গুলো যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।