একুশে ফেব্রুয়ারির বিকেল চারটার দিকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল নতুন পাড়া এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শতাধিক লোকের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাজমিস্ত্রি মোঃ আলমগীর হোসেনের বাড়িতে। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট করে এবং পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে মারধর করে।
আলমগীর হোসেন জানান, তিনি সাধারণ রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। ঘটনার দিন কাজে বাইরে থাকাকালীন হঠাৎ খবর পান—ধরইলের মৎস্যজীবী পাড়ার অর্ধশতাধিক লোক তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তার ছোট ভাই, মা এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ির পাশে আগুন লাগিয়ে দিয়ে উল্লাস করে চলে যায় এবং পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা, স্বর্ণের চেইন, গলার মালা সহ অন্যান্য মূল্যবান স্বর্ণালংকার , ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮ জন। তাদের চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ, কোনো দল-মত নেই। শুধু পরিশ্রম করে সংসার চালাই। এখন সব শেষ! কীভাবে আবার শুরু করবো? পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় এই চক্রটি ফিরে এসে বড় ধরনের কিছু ঘটাতে পারে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই, প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।”
চাটমোহর থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধরইল এলাকায় এখন থমথমে পরিবেশ। স্থানীয় শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন—যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, কঠোর নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।