ঝালকাঠিতে ইভটিজিং এর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে কথিত হলুদ সাংবাদিক লাশা মিজান। ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠির ইকোপার্ক মাঠে হাঁড়িভাঙ্গা খেলা দেখার সময় মেলায় আগত জনৈক হুজুরের স্ত্রীর নিতম্বে ও লজ্জা স্থানে হাত দেয়। ভুক্তভোগী মহিলা বিষয়টি গোপনীয়তায় তার স্বামীকে জানায়। স্বামী বিষয়টি আমলে নিয়ে কথিত হলুদ সাংবাদিক লাশা মিজানকে ফলো করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর অন্য আরেক নারীর পাছায় ও বুকে হাত দেয়ার সময় লাশা মিজানকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম হিরুর নজরে পড়লে লাশা মিজানকে গণধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম হিরু জানায়, লাশা মিজানকে ইভটিজিং এর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হলে আমি জানের নিরাপত্তায় এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করি। আমি ঘটনা স্থলে না থাকলে লাশা মিজানকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতো ক্ষুব্ধ জনতা।
এ ব্যাপারে লাশা মিজান সাংবাদিকদের জানান, হাঁড়িভাঙ্গা খেলা দেখার সময় এক মহিলা তার বাচ্চাসহ আমার সাথে ধাক্কা লাগে। তখন আমি বাচ্চাটাকে সরিয়ে দিতে গেলে ওই মহিলা আমার উপর ক্ষুব্ধ হন। তখন একজন হুজুর মত অচেনা এক ব্যক্তি আমাকে মারধর করে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝালকাঠির কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, লাশা মিজানের নামে ইতিপূর্বে একাধিকবার এরকম অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এটা সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জাজনক। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঝালকাঠি কলেজ মোড়ের বাসিন্দা মোঃ হাসিব জানায়, লাশা মিজান আমার স্ত্রীর সাথে অশোভন এবং মানহানিকর কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ঘটনাস্থলেই উত্তম মাধ্যম প্রদান করা হয়েছে। ওই লাশা মিজান ইতিপূর্বে শহরের মনোহরী পট্টি ও বড় বাজারে ভীরের মধ্যে ইভটিজিং করার কারণে ধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল। এছাড়াও তার মালিকানাধীন ষ্টুডিওতে এক যুবতীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে।
ওই লাশা মিজান ওরফে ডেঙ্গু মিজান নানা অপকর্মের হোতা। সে ঝালকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নামে মামলা করে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করে আসছিল। ঝালকাঠির প্রবীণ সাংবাদিক আসিফ সিকদার মানিকের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি করার কারনে তিনি সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে মৃত্যু বরণ করেন। ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের অফিস দখল করে রিপোর্টার্স ইউনিটির ভুয়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে তা দখল করে ব্যাক্তিগত সুবিধা ভোগ করছে। ঝালকাঠির প্রভাবশালী এক সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে এই লাশা মিজান ওরফে ডেঙ্গু মিজান ওরফে পঁচা মিজান।