মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

রামগড়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে মিলে মাদক,স্বর্গ রাজ্যে পরিনত

বেলাল হোসাইন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১:৪০ অপরাহ্ণ

শুক্রবার রামগড়ে পুলিশ ও বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা,মদ ও বিয়ার সহ একজনকে আটক করা হয়েছে।রামগড় সোনাইপুল চেকপোস্টের সামনে আনোয়ার হোসেন নামের এক মাদককারবারী কে ৫০পিস ইয়াবা সহ আটক করে পুলিশ।একই দিনে পৃথক অভিযানে ফেনীনদীর কূল এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ এবং লাচারিপাড়ায় ২০বোতল ভারতীয় বিয়ারের বোতল জব্দ করে। খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী শহর রামগড়ে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদকের এমন সহজলভ্যতার কারণে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া তরুণেরাও আশঙ্কাজনকভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। উপজেলায় গাঁজা থেকে শুরু করে ভারতীয় মদ, বাংলা মদ, ইয়াবা, গাঁজা,ফেনসিডিলসহ নানা রকম মাদক কেনাবেচা হচ্ছে।রামগড়ে মাদকের এই রমরমা ব্যবসা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করে মাদক কারবারিরা। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন কয়েকজন অভিভাবক। রামগড় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের জানান, একপ্রকার প্রকাশ্যে বিক্রি হয় মাদক।রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা।যুবকদের পাশাপাশি মাদকের আগ্রাসন গ্রাস করেছে স্কুল-কলেজগামী তরুণদেরও। শখের বসে মাদক গ্রহণ করে পরবর্তী সময় মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা।তিনি আরো জানান,বিভিন্ন রকমের জন্মদিনের উৎসব, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে কেন্দ্র করে রাতভর গোপন আস্তানায় জলসা বসায় এসব স্কুল-কলেজের ছাত্ররা। অভিজাত পরিবারের অনেক সন্তান এ মাদকের নেশায় ভয়াবহ রকম আসক্ত।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, রামগড়ের গর্জনতলী, জগন্নাথপাড়া, সুকেন্দ্রপাড়া, দারোগাপাড়া, সোনাইপুল, ফেনীরকূল, আনন্দপাড়া, রামগড় লেকের পাড়,বল্টুরাম, সিনেমা হল এলাকা, মাস্টারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, তৈচালা, লালছড়ি, লামকুপাড়া, খাগড়াবিল, অন্তুপাড়া,বলিপাড়া,জালিয়াপাড়া, নাকাপা প্রভৃতি এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।বিভিন্ন হাটবাজার এবং অলিগলিতে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, চোলাই মদ ও বিভিন্ন ভারতীয় ব্র্যান্ডের মদ অবাধে বিক্রি হয়। রামগড় বাজারের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, মাদকের সহজলভ্যতায় এখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপদস্থ হওয়ার ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে কিংবা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নদীরকূল,শহীদ মিনার এলাকা ও পরিত্যক্ত বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা হলেই রামগড় সরকারি উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত শহীদ মিনার ও বিদ্যালয়ের মাঠে মাদক সেবনের আসর বসায় স্কুল, কলেজগামী ছাত্র এবং উঠতি যুবকেরা। এসব আসরে তারা গাঁজা ও ফেনসিডিল সেবন করে বলে জানা যায়। সংরক্ষিত এলাকায় গণহারে মাদকসেবীদের আড্ডায় প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রামগড় সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম জানান,নেশার সিরাপ খেয়ে খালি বোতল ছুড়ে ফেলে বিদ্যালয়ের ভেতর। সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের সামনের খোলা অংশে স্থাপিত শহীদ মিনার এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা লক্ষণীয়। ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবীর বাবা বলেন, তাঁর ছেলে নেশাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারে সব সুখ নষ্ট হয়ে গেছে। শত চেষ্টা করেও তাকে নেশার জগৎ থেকে ফেরানো যায়নি। পুলিশ ছিঁচকে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করলে মাদক নির্মূল কখনো সম্ভাবনা নয়। যাদের আশ্রয়ে এসব মাদক বিক্রি হয়, তাদের গ্রেপ্তার করলে মাদক নির্মূল সম্ভব। রামগড় পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম কামাল বলেন,মাদকের ভয়াল থাবা রামগড়কে গ্রাস করেছে।তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। রামগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম আলমগীর বলেন,প্রতিবাদ করলে বিক্রি আরো বাড়ে।মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে না পারলে মাদকের এই জোয়ার থামানো যাবেনা। রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কারবারী বলেন,রামগড়ে যে হারে মাদক সেবন ও বিক্রি ছড়িয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে বলেছি। রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মিজানুর রহমান জানান,খবর পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। রামগড় ৪৩ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু বকর সিদ্দিক সাইমুম বলেন, ‘রামগড় সীমান্ত হয়ে মাদক পাচারের বিষয়ে বিজিবি অবগত। বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ এবং প্রায় আড়াই শত কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।’

 

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ আফরিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একশ্রেণির বখাটে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন খুবই সজাগ। মাদকসেবী সন্দেহভাজন তরুণদের কর্মকাণ্ডের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়েছে। মাদক পাচার ও মাদক সেবনের খবর পেলেই তাদের আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর