মরা খালের ওপর গ্রামবাসীর নির্মিত ১জোড়া ৬০ফুটের বাঁশের সাঁকোর ওপর চলাচল করে গ্রামের হাজারো বাসিন্দা।খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের আবুল বলির বাড়ির পাশের এই তৈছালা খালের ওপর বাঁশের সাঁকোই গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা।একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর আশায় বুক বেঁধে থাকলেও তাদের দুঃখ-দুর্দশার দিকে আজ পর্যন্ত কেউ ফিরে তাকায়নি। বর্ষার মৌসুম এলেই দুর্ভোগ বেড়ে যায় সাঁকোতে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঝড়বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক তৈচালাপাড়া সোমাচন্দ্র স্কুলের সামনে যাতায়াতের পথে এ খালটি অবস্থান।তৈছালাপাড়া,বতপাড়া,সোনাইআগা এলাকার সংযোগস্থল এই গ্রাম।অন্তত গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস।দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এ সেতুটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনেক আবেদন করা হয়েছে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর কেউ খবর রাখেনা।ফলে এ পথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান,স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব জনপ্রতিনিধির কাছে একটি সেতুর জন্য বারবার আবেদন করা হয়েছে।প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি।তারা জানান,সামাজিক কবরস্থান এবং মসজিদ মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এলাকার কোন মানুষ মারা গেলে লাশ দাফনের জন্য মৃত ব্যক্তি নিয়ে সেতু দিয়ে পারপার হতে খুব বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়।তাছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদিপশুর পারাপারের সময় তাদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসাইন জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খাল পার হয়ে স্কুল,মাদ্রাসা,কলেজে যাতায়াত করতে হয়।গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। এই সাঁকো দিয়ে চলছে এখন পারাপার, এতে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।খালের ওপর ৬০-৭০ফুটের একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে এলাকার মানুষ এই কঠিন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শামীম মাহমুদ জানান,এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা তিনি শুনেছেন।কিন্তু খালের জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকায় খালের ওপর সেতুর কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা।জটিলতা নিরসন হলেই বরাদ্দের জন্য আবেদন করবেন। রামগড় পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম কামাল বলেন,বিষয়টি তিনি জানতেন না।তার কাছে আবেদন করলে বিষয়টি তিনি দেখবেন।