ঝালকাঠিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তৈল মজুদ করে এবং বোতলজাত তৈল ড্রামে ঢেলে বেশি দামে বিক্রি করছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও ভোক্তা অধিকারের সহায়তায় যৌথ অভিযানে একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এসময় তাদের গোপন গুদাম থেকে হাজার হাজার লিটার মজুদ করা তৈল উদ্ধার করা হয়। এভাবে অভিযান অব্যাহত থাকলে ঝালকাঠিতে তৈল সহজলভ্য হবার পাশাপাশি নির্ধারিত দামে ক্রেতারা কিনতে পারবে বলে সচেতন মহলের ধারণা। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঝালকাঠির কজন অসাধু ব্যবসায়ী ঈদের আগের রাতে বড় চালানের যে তৈল ঝালকাঠি এনে গুদামজাত করেছে তার সন্ধান মিলেনি এখনো। কারণ ঐ তৈল বাজারে ছাড়া হলে ঝালকাঠিতে তৈলের সংকট থ্কাার কথা নয়। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ সাধারণ জনগনের। গতকাল সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবেকুন নাহার শহরের একাধিক তৈল ব্যবসায়ীর গুদামে গিয়ে পরিদর্শন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, ঝালকাঠিতে ঈদের আগে ৫ লিটারের বোতলজাত তৈল বিক্রি করত ৭৬০ টাকা দরে। একই তৈল এখন বোতল ভেঙ্গে সরকার নির্ধারিত ২০০ টাকা প্রতি লিটার দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এ হিসাবে ৫ লিটার বোতল তৈলের দাম পড়ে ১ হাজার টাকা। কারন বোতল না ভেঙ্গে বিক্রি করলে বোতলের গায়ে রেট লেখা দেখে ক্রেতারা বুঝতে পারবে বেশি দামে বিক্রি করার বিষয়টি। কিন্তু নির্ধারিত নতুন দরের তৈল এখন পর্যন্ত ঝালকাঠিতে আসেনি। তাই সরকার নতুন দর ঘোষনা করায় কম দামে কেনা তৈল আগে মজুদ করায় এখন নতুন দামে বিক্রি করতেই বাজারে এই সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে বলে সৎ ব্যবসায়ীরা মনে করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ২-১ লিটারের তৈল প্রকাশ্যে বিক্রি করে প্রশাসনের কাছে সাধু সাজলেও ৫ লিটার বোতলের তৈল বিক্রি না করে গুদামজাত করে রেখেছে। ক্রেতার জানায় প্রশাসন যদি উদ্ধার বা জব্দ করা তৈল সাথে সাথে নির্দিষ্ট স্থানে এনে নির্ধারিত দরে বিক্রি করার উদ্যোগ নিত তাহলে ক্রেতারা আরোবেশি উপক্রিত হতো।
ঝালকাঠি শহরের মনোজ ষ্টোরে রবিবার অবৈধ ভাবে সোয়াবিন তৈল মজুদ করার অপরাধে অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস রবিবার শহরে অভিযান চালিয়ে বেশী দামে সোয়াবিন তৈল বিক্রির অভিযোগে কালাচাঁদ বনিককে ২ হাজার টাকা, আক্কাস ষ্টোরকে ২ হাজার টাকা, হাসান ষ্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় ভোক্তা অধিকার সোমবার শহরের মুদি মনোহরী ব্যবসায়ী মনোজ ষ্টোরের লুকিয়ে রাখা একটি বাসার রুমে অভিযান চালিয়ে ৭০০ লিটার তৈল উদ্ধার করেন। বেশি লাভের আশায় এই তৈল মজুদ করে ছিল বলে ভোক্তা অধিকার জানায়। তৈল মজুদ করার অপরাধে মনোজ ষ্টোরের মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে উদ্ধারকরা তৈল পূর্বের দামে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে শহরে অবৈধ ভাবে তৈল মজুদ করায় সুনীল হালদারের দোকানে ৩০ হাজার টাকা ও বিমল রায়ের দোকানে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সুনীল হালদার বেশি লাভের আশায় বোতলজাত তৈল ড্রামে ঢেলে বিক্রি করার জন্য ১১ হাজার লিটার তেল মজুদ করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয় বলে জানাগেছে।
ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক ঝালকাঠির বিভিন্ন কোম্পানির সোয়াবিন ডিলারের গোডাউন পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলা হয় সোয়াবিন তৈলের বোতলের গায়ে লেখা দামের বেশি নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
#CBALO/আপন ইসলাম