শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
নান্দাইলে মৌলভী বাড়ী মক্তব ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গোপালপুরে ধানের শীষের পক্ষে বাস মালিক সমিতির নির্বাচনী প্রচারণা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান, বিএনপির নেতৃত্বেই বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাযাবে হয়েছে-আটঘরিয়ায় হাবিব  এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল উল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম দল অফিস উদ্বোধন  শাপলা কলির নির্বাচনী মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত উল্লাপাড়ায় ফকির দরবেশ বাউলদের প্রার্থী আকবর আলীর মতবিনিময় সাইনবোর্ড নেই, মান নেই: নান্দাইলে রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও সংরক্ষণ করা যায়নি আগৈলঝাড়ার ১৬ শহীদের কবরের স্মৃতিটুকু

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আপডেট সময়: শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
বরিশালের দুই পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

মুজিব বর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়া বরিশালের আগৈলঝাড়ার ১৬ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর আজও সংরক্ষরণ করা হয়নি।
৭১ এর রনাঙ্গন কাপানো ওই সকল শহীদ মুক্তি যোদ্ধাদের দরিদ্র পরিবার সদস্যদের আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় পারিবারিক উদ্যোগে তার সংক্ষণ করতে পারে নি, এমনকি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেও তাদের কবরগুলো আজও সংরক্ষণ না করতে পারায় মুছে যেতে বসেছে শহীদদের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকুও। মুজিব বর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শহীদদের কবরস্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার সদসরা।
পরবর্তী প্রজন্ম জানবেও না দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তারা কে কোথায় চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন ? বছর ঘুরে বছর আসে, জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় মহান বিজয় দিবস। আর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার সদস্যদের সংবর্ধনার নামে ভাগ্যে জোটে একটি রজনীগন্ধার ডাটা। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে এলাকার চারজন শহীদের নামে কবরস্থান বাঁধাইয়ের একটি প্রকল্প গ্রহন করা হলেও সরেজমিনে গিয়ে তাদের নামের বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেও তাদের নাম না থাকায় ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন বাতিল করেছে মন্ত্রনালয়। মুজিব বর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শহীদদের কবরস্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার সদসরা।
আর্থিক সঙ্গতি থাকা দু’একটি পরিবার তাদের প্রিয়জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবরটি সংরক্ষণ করতে পারলেও অধিকাংশ কবরগুলো এখনও সংরক্ষণ করা যায়নি। কারণ, দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত ওই পরিবারগুলোর ভাগ্যে জোটেনি সরকারী বা রাজনৈতিক কোন পৃষ্ঠপোষকতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পতাকা ওড়া পর্যন্ত পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বীর যোদ্ধারা হলেন, গৈলা গ্রামের সিপাহী আলাউদ্দিন, শিহিপাশা গ্রামের মোস্তফা হাওলাদার, নুরুল ইসলাম হাওলাদার, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের মান্নান মোল্লা, সেরাল গ্রামের সিপাহী সিরাজুল ইসলাম, ভালুকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান খান, বাশাইল গ্রামের গোলাম মাওলা, সেকেন্দার আলী, আব্দুল আজিজ শিকদার, রাজিহারের বসুন্ডা গ্রামের আব্দুল হক হাওলাদার, পয়সা গ্রামের শামসুল হক, ফুল্লশ্রী গ্রামের মনসুর আহম্মদ, চাঁদত্রিশিরা গ্রামের তৈয়ব আলী বখতিয়ার, বেলুহার গ্রামের আব্দুস ছালাম, বরিয়ালী গ্রামের মহসীন আলী ও রত্নপুর গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদার।
সেরাল গ্রামের সিপাহী সিরাজুল ইসলাম বরিশালের তালতলা যুদ্ধে শহীদ হন। ওই সময় তার কর্মস্থল বরিশালে কবর দেয়া হলে পরবর্তিতে স্বজনদের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্তেও অর্থ সংকটের কারণে আজও তার নিজ বাড়িতে প্রিয়জনের কবরটি স্থানান্তর করতে পারেনি স্বজনেরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. সিরাজুল হক সরদার বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে ১৬ শহীদের কবরস্থান সংরক্ষন করার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে ১৬ শহীদের কবরস্থান সরকার থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে সংরক্ষন করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সর্ব বৃহৎ বধ্যভুমি কেতরার বিল ও কাঠিরা বধ্যভুমি সরকারীভাবে সংরক্ষণের জন্য ২৮লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানগুলো সংরক্ষনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছেবলেও জানান তিনি।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর