বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আশারফ জিন্দানী (রহ.) মাজার ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির অনিয়মের প্রতিবাদে চাটমোহরে মানববন্ধন জ্বালানি তেলে কারচুপি রোধে বগুড়ায় ৫ ফিলিং স্টেশনে বিএসটিআইয়ের অভিযান আটোয়ারীতে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বীরগঞ্জে দিনব্যাপী কৃষক কৃষাণী প্রশিক্ষণ  ভাঙ্গুরায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা,২ জনের কারাদণ্ড রাজশাহীতে সরকারি সেবাদাতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংলাপ অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জে জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক এডভোকেট জামিলুর রশিদ খান দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে সরকারি যাকাত ফান্ডের চেক বিতরণ

মেয়েকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য ১২৫ বার যৌন নির্যাতন করায় মা ও বাবা

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আপডেট সময়: বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে (১৪) অমানুষিক নির্যাতন করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন তার মা ও বাবা। শুধু তাই নয়; গত পাঁচ মাসে ওই কিশোরীর ওপর প্রায় ১২৫ বার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। যে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো নির্যাতিতা কিশোরীর মা ও বাবা।
অবশেষে পুলিশের সহায়তা চাইলে কিশোরীর অভিযুক্ত মা-বাবা ও যৌন হয়রানি চালানো এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ নিউ সার্কুলার রোডের গাজী বাড়ি এলাকার।
রবিবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিতা কিশোরীর জবানবন্দি গ্রহণের পর তার বড় বোনের দায়ের করা লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহন করেছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনকে রবিবার শেষ কার্যদিবসে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের পাশাপাশি নির্যাতিত কিশোরীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।
এজাহারে জানা গেছে, নির্যাতিতা কিশোরীর মা নাসরিন বেগম ও বাবা সামসুল সিকদার বাসায় বসে মাদক ও নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বেশ কয়েকমাস ধরে ওই কিশোরীকে তার বাবা ও মা দেহব্যবসা করার কথা বলে আসছে। এতে কিশোরী রাজি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাকে মারধর করা হতো।
গত জুন মাসে নাসরিন বেগম নগরীর মুনসুর কোয়ার্টার এলাকার মিম মধুঘরের মালিক আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের বাসায় নিয়ে ওই কিশোরীকে আনোয়ারের সাথে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে আনোয়ার কিশোরীর শ্লীলতাহানি করে।
নির্যাতিতা কিশোরীর দাবী তার বাবা ও মায়ের সহায়তায় সেই থেকে গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রায় ১২৫ বার আনোয়ারের সঙ্গে তাকে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়। ওই কিশোরী আরও জানান, বিষয়টি তার বড় বোন ও দুলাভাইকে জানালে তাদেরকে হাত-পা ভেঙে মাদকসহ পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। কিশোরীর বড় বোন অভিযোগ করেন, তাকেও তার মা ও বাবা দেহব্যবসায় বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। পরে সে একটি ছেলেকে বিয়ে করে রক্ষাপায়।
সূত্রমতে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে পালিয়ে ওই কিশোরী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এসে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানকে বিস্তারিত জানালে তিনি তৎক্ষণিক আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে কিশোরীর মা নাসরিন বেগম, বাবা সামসুল সিকদার ও মধু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে গ্রেফতার করেন। রবিবার দুপুরে নির্যাতিতা কিশোরীর বড় বোন গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর