কক্সবাজারে ৭০০ একর বনভূমি লিজ বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হবে বলে বলেছেন, মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী বক্তরা৷
রোববার সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে শহরের ২০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের নিজ নিজ ব্যানারে যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন৷
মানববন্ধনে বক্তরা আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। সেখানে হাতির অভয়ারণ্য, হাতি চলাচলের করিডর ও প্রাকৃতিক জলাধারগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে। এখন প্রশিক্ষণ একাডেমির নামে ৭০০ একর বনভূমি উজাড়ের চক্রান্ত চলছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাপত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ শহিদুল্লাহ, কক্সবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, বাপা কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক ইমাম খাইর, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল, ১২ সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসলাম মাহামুদ, দরিয়া নগর গ্রিন ভয়েসের সভাপতি পারভেজ মোশারফ, টিম ইলেভেন কক্সবাজারের সভাপতি মো. ইরফান, সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের জেলা সভাপতি ওমর ফয়েজ, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস কক্সবাজারের সমন্বয়কারী জিমরান মো. সায়েক, টেকপাড়া রাখাইন ছাত্র পরিষদের সভাপতি উথান্ট অং প্রমুখ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে শুকনাছড়ির প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ও রক্ষিত ৭০০ একর পাহাড়ি বনভূমিতে আমরা প্রশিক্ষণ একাডেমি চাই না। চাই বনাঞ্চলে ঝুঁকিতে থাকা হাতিসহ বন্য প্রাণীর সুরক্ষা। গত তিন বছরে কক্সবাজারের বনাঞ্চলে মারা গেছে ১৭টি বন্য হাতি। ১১ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়শিবির তৈরিসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা তৈরির বিপরীতে উজাড় হয়েছে আরও ১২ হাজার একরের বেশি বনাঞ্চল। এতে শতাধিক বন্য হাতির অভয়ারণ্য উজাড়, খাদ্য ও খাওয়ার পানির তীব্র সংকটে পড়েছে বন্য প্রাণী। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ একাডেমির বিপরীতে আরও ৭০০ একর বনাঞ্চল উজাড় হলে বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব থাকবে না। তাই প্রশিক্ষণ একাডেমির বিপরীতে বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমির ইজারা বাতিলের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।’
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাপত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, মাননীয় জেলা প্রশাসক আপনার কাছে প্রশ্ন? কিভাবে দুই নম্বর খতিয়ানের জায়গা আপনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিজ নেওয়ার জন্য ফাইল যায়৷ এই কক্সবাজার আমাদের৷ আমাদের মাতৃভূমিকে ধ্বংস করার জন্য এই পাইতারা চালানো হচ্ছে৷
তিনি আরো জানান, আল্লাহর কসম আমাদের বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও পরিবেশবাদী সংগঠন যতদিন মাঠে থাকবে ততদিন আপনি এবং সরকারের কোন আমলাই এইরকম জাতির সাথে প্রথারণা এবং দেশের প্রচলিত আইন বঙ্গ করে এক একর জায়গাও বাস্তবায়ন করতে পারবেন না৷ আমরা আমাদের রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও কক্সবাজারের মানুষের সুন্দর্য এবং অধিকার আদায়ে লড়াই করব৷
বাপা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, ‘১০০-৩০০ সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের জন্য ৭০০ একর জমির দরকার কেন হবে? তারপরও প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের দরকার হলে জেলায় বহু সমতল ভূমি রয়েছে, সেখানে প্রশিক্ষণ একাডেমি তৈরি করলে আমাদের কারও আপত্তি নেই। কিন্তু বনাঞ্চল উজাড় করে কাউকে প্রশিক্ষণ একাডেমি করতে দেওয়া হবে না।’
নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যটন শহরের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে বলে সবার নজর পড়েছে সমুদ্রসৈকত এলাকার দিকে। প্রাকৃতিক দৃশ্য, পাহাড়, ঝরনা, বন্য প্রাণীর দৌড়ঝাঁপ দেখতে মানুষ কক্সবাজারে ছুটে এলেও সরকারি আমলারাই তা ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। কক্সবাজারের ২৫ লাখ মানুষ ৭০০ একর বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি চান না।
শুকনাছড়ি সমাজ কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহমদ বলেন, বনাঞ্চলের আশপাশে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমিতে রয়েছে হাতিসহ বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। একাডেমির জন্য এ বনাঞ্চল উজাড় হলে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। এলাকার মানুষ তা মোটেও চান না।
মানববন্ধনে অন্যন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) জেলার সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক ফরিদুল আলম শাহীন, অর্থ সম্পাদক সাংবাদিক জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম, ২০ পরিবেশবাদী সংগঠন, মিডিয়া, প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরের লোকজনসহ অসংখ্য নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
#চলনবিলের আলো / আপন