কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জিয়াউল হক জিয়া। চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পথরোধ করে তার কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বাঁচাতে আসা স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নানামিয়া পাড়া এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক জিয়াউল হক জিয়া (জেলা প্রতিনিধি: মর্নিং পোস্ট ও চলনবিলের আলো; ক্রাইম রিপোর্টার: দৈনিক দৈনন্দিন) সোমবার সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকায় দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেল যোগে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নানামিয়া পাড়া এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাহফুজুর রহমান পিতা কালা মিয়া (৩৭) ও জকরিয়া (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা ভিত্তিহীন পাওনা টাকার অজুহাত তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিক জিয়া এই অনৈতিক দাবির প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেল ও চাবি ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় গাড়িতে তার পেশাগত পরিচয়পত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল।
খবর পেয়ে সাংবাদিকের স্ত্রী ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সর্বসাধারণের সামনে সাংবাদিকের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করে তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। যাওয়ার সময় আসামিরা মামলা করলে সপরিবারে প্রাণনাশে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানা গেছে।
৯৯৯-এ অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তা এবং গাড়ি উদ্ধারের লক্ষে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। তার অভিযোগটি CFS62870981 নম্বর রেফারেন্সে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৮৫/৩৯২/৫০৬/৫০৯/৩৪ ধারায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়।
সাংবাদিক জিয়াউল হক জিয়া বলেন, “স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ৯৯৯-এর কল রেকর্ড এবং লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।