শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

চৌহালীতে  কাহহার সিদ্দিকী জামে মসজিদ উদ্বোধন

মাহমুদুল হাসান, চৌহালী প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

পবিত্র হজ্ব ও ঈদু উল আযহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের চৌহালীর বাঘুটিয়ার বিনানই  কাহহার সিদ্দিকী জামে মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে।
চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সম্ভুদিয়া  বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী নিজে অর্থ জমি ও শ্রম দিয়ে  একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করেন।
বিঙান ও প্রযুক্তির নতুন প্রজন্মকে ইসলামের প্রতি বেগমান ও এলাকার  মানুষ এক সাথে নামাজ কায়েম করতেই এ মসজিদ স্থাপন করে তিনি আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন চেয়ারম্যান।  সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিনানই গ্রাম এখন ডিজিটাল। মসজিদ হলো মুসলমানের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থান। শব্দটির উৎপত্তি আরবি থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণ ভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং জুম্মার নামাজ আদায় করা হয়
তাকে মসজিদ বলে।
আবার যেসব বড় আকারের মসজিদ গুলোয় নিয়মিত নামাজের সাথে সাথে শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় হয় এবং অন্যান্য ইসলামিক কার্যাবলী নিয়মিত ভাবে সম্পাদিত হয় সেগুলো জামে মসজিদ নামে অভিহিত।
মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম যা সামান্য কল্পনাশক্তি দিয়ে অনুমান করা সম্ভব নয়। মসজিদ হলো ইমানের ইস্পাত কঠিন দূর্গ, তাওহিদের বাণী প্রচারের প্রাণকেন্দ্র।  যেখান থেকে গড়ে উঠেছিল মুসলিম উম্মাহর প্রথম প্রজন্ম।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (স) হিজরতের পর মদিনায় এসে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণের কর্মসূচি হাতে নিয়ে ছিলেন। তিনি হিজরত কালে পথিমধ্যে কুবার যে জায়গায় অবস্থান করেছিলেন সেখানেও মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ছিলেন। পরবর্তীতে মুসলমানদের  হাতে যে অঞ্চলের বিজয় হয়েছে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেছেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে যা মুসলিম-ঐতিহ্যের সাক্ষী  হয়ে ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে।
আলকোর আনের আলো ও নবী এবং রসুলের বানি মানুষের মাঝে পৌছে দিতে এক জন শিক্ষাগুড়ু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সৎ আদর্শিক ইনকামের টাকায় মসজিদ নির্মাণ করেঅত্যধিক সওয়াব ও ফজিলতের কাজ করলেন তিনি।
 আল্লাহ তায়ালা মসজিদকে তার নিজের দিকে সম্মানমূলক সম্মন্ধ করে আল কুরআনের ২৮ জায়গায় এর আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় মসজিদ সমূহ আল্লাহর জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না”। [সুরা জিন-১৮] শুধু তাইনা মহান আল্লাহ আল কুরআনে মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণা বেক্ষণের বহু ফজিলতের ঘোষণা দিয়েছেন। এ কাজকে ইমানদারদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন,”নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ইমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি এবং যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে ও জাকাত আদায় করে; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না, অতএব, আশা করা যায়, তারা সুপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। [সুরা তাওবা-১৮]
মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে অনেকগুলো হাদিসও আছে। উসমান ইবনু আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নিজে রসুলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন”।  হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, “মুমিনদের যেসমস্ত আমলের ধারা মৃত্যুর পরও চলমান থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো,
১। সেই ইলম (জ্ঞান) যা সে প্রসার করে গেছে ২। রেখে যাওয়া নেক সন্তান ৩। রেখে যাওয়া কুরআনের কপি ৪। তার নির্মাণকৃত মসজিদ ৫। তার নির্মাণ করে যাওয়া মুসাফিরখানা ৬। তার স্থাপন করে যাওয়া নলকূপ এবং ৭। ওই সাদাকা, যা বেঁচে থাকতে সে দান করে গেছে”।
মহান আল্লাহ যেসব ঘরকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; এমন লোকেরা, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে”। [আল কুরআন সুরা আননুর-৩৭]
একার পক্ষে একটি মসজিদ নির্মাণ করে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অবশ্য করতে পাড়লে সর্বসেরা ভালো কাজ। একার পক্ষে সম্ভব নাহলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ও মসজিদ নির্মাণ করা যায়। এতে সওয়াবের কমতি নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণকার্যে অংশগ্রহণ করলে অসীম সওয়াবের মালিক হওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন,”যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পাখির বাসা পরিমাণ কিংবা তারচেয়েও ছোট মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। গনমানুষের রায়ে  একাধিক বার নিবাচিত চেয়ারম্যান শিক্ষাগুড়ু বাঘুটিয়া ইউপির বিনানুই গ্রামে “আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী একখানা মডেল জামে মসজিদ নির্মাণ করেন, মডেল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র(হাসপাতাল)বাজার ও প্রস্তাবিত তিন তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল আশ্রায়ন কেন্দ্র স্থান,মডেল সুম্ভিদিয়া বহুৃুখী উচ্চ বিদ্যালয়,খেলার মাঠ,কলেজ,মাদরাসা, এতিমখানা,স্কুল ও রাস্তা  করে সরকারের উন্নয়ন পৌছে দিলেন গ্রামে।
নামাজ শেষে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান  আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী বলেন, আমার বাবাকে আপনারা ভাল বাসতেন আমাকে ভালবেসে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেওয়ায়,বাঘুটিয়া আজ উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। আমি সবার কাছের মানুষ হয়ে থাকতে চাই, এলাকার বাকি উন্নয়ন কাজ করার সুযোগ দিন , আপনারা আমার জন্য  ভালবাসা, দোয়া,সমর্থন এবং উন্নয়নের সহযোগিতা  কামনা করছি।
গত  শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধনী দোয়ায় ইমানদার মুসলমানের পরিচয় দিয়েছেন  মসজিদ নির্মাণ করে। কাজটা লোক দেখানো না হলে প্রতিদানরূপ  ইহকালের সুখ ও পরকালে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ প্রথম জুম্মায় এসে উদ্বোধনী দোয়ায় এসব কথা বলেন উমাম।
নামাজ শেষে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সার্বিক সফলতা ও নিরাপত্তার বেষ্টনী কামনাসহ তার পিতা মাতাসহ সকলের জন্য দোয়া  করা হয়। 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর