রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরের পাকুটিয়া ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করলেন ডা. হামিদ পাকুটিয়া ইউনিয়ন যুব জামায়াতের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লার উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মোস্তফা প্রি ক্যাডেট স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ  নাগরপুরে দুয়াজানী কলেজপাড়া প্রিমিয়াম ব্যাটমিন্টন টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত  নওয়াপাড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নবজাতক উধাও, শিশু বিক্রির অভিযোগ আটোয়ারী উপজেলা প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা এবং চ্যানেল এস এর বর্ষপূর্তি পালন বান্দরবান ধানের শীষ প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত অভয়নগরে মধ্যরাতে সেনা অভিযানে পিস্তল–শর্টগানসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, যুবক আটক

লামায় একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

মোঃ নাজমুল হুদা, লামাঃ
আপডেট সময়: রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, ৮:১১ অপরাহ্ণ

শুধুমাত্র একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) ১০ গ্রামের ১৫ হাজারধিক মানুষ। কোনো মতে বাঁশের বেলা,ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই বা হেটে পারাপার হচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও ১৫ হাজারাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

গতকাল সরেজমিনে জানা যায়, ফাদু খালের উত্তর পাশের অন্তত ১০টি (বড় পাড়া,চরপারা,অঙ্গাবিল,নতুন মুসলিম পাড়া, বাটেনটিলা,বার্মাইয়া পাড়া,কুইলাইক্কা পাড়াসহ) গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় দক্ষিণ দিকের বমু পুকুরিয়া গ্রাম হয়ে সদর উপজেলা লামা। দক্ষিণ দিকেরও ৪টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে। আরও এই সেতুটি নির্মাণ করা হলে লামা উপজেলা সদর হতে সরাসরি ভিতরে রাস্তা দিয়ে গজালিয়া বাজারও যাতায়াত করা যাবে।

প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই সাময়িক বাঁশের ভেলা ও ডিঙি নৌকা দিয়ে ছোট এই নদী কোনো রকমে যাতায়াত করেন। শত বছরের খেয়া ঘাট দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

ফলে উভয় পাড়ের মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।চরপাড়া গ্রামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমান, স্কুলছাত্রী মেহেরুনেচা,জন্নাত আরা ও মিরাজ জানায়, বর্ষার মৌসুমে ভারি বর্ষণে আমাদের ফাদু খাল উজান থেকে পানি এসে নিচে তলিয়ে যায়। তখন আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের এই এলাকার শতাধিক ছাত্র ছাত্রী লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,লামা মাদ্রাসা,মাতামুহুরী কলেজ,শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের খাল পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আরও নদীতে পানি বেশি থাকলে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারি না।

বড় পাড়া ও চর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উনুমং মার্মা, সুইচিং মার্মা ও আলী আহমদ জানান, সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের সবার জন্য একটি ব্রীজ তৈরী করে দিলে অনেক ভাল হয়।
তারা আরও জানান রাতে খালে পানি বেশি হলে যেকোনো সময় পার হতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

সেক্ষেত্রে ক্রংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিব চক্রবর্তী বলেন, লামা উপজেলা শহর থেকে অত্র জনপথের সেতুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সেতু ফাদু খালের উপর হবে। ফাদু খাল (ছোটনদী) ওই সেতুর আশপাশে কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩ ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও ফাদু খালের উপর সেতুটি আজও নির্মাণ করা হয়নি। এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ।

স্থানীয় কৃষক হাফেজ আহমেদ,নুর মোহাম্মদ,ব্যবসায়ী সন্নাসী মার্মা ও শেখ তোফায়েল উদ্দীন জানান, বর্ষার সময় এই খালে পানি উজান থেকে আসলে অনেক দূরের রাস্তা ঘুরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাতে আমাদের কষ্ট ও সময় বেশি হয়। নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা জানান, শত বছরের পুরাতন এই খেয়া ঘাটটিতে আজও একটি সেতু নির্মাণ করা হয়নি। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

লামার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাহফুজুল হক বলেন, এবারে ফাদু খালের উপর সেতু নির্মাণে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। আগামীতে দেখে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর