বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শেবাচিমের সিসিইউ বিভাগে চরম দুরাবস্থা

রুবিনা আজাদ,আঞ্চলিক প্রতিনিধি,বরিশাল:
আপডেট সময়: বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

দক্ষিণাঞ্চলবাসীর একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে।

স¶মতার চারগুন বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে ওই ওয়ার্ডে। পিনপতন নিরবতা থাকার কথা থাকলেও রোগী ও তাদের স্বজনদের পদভারে সবসময় মুখরিত থাকে ওয়ার্ডটি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিসিইউ বিভাগের আটটি এসির সবগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পরে রয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখাগুলোও কার্যক্ষমতা হারিয়েছে অনেকাংশে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন বিকল এবং পাখাগুলো কার্যক্ষমতা হারানোর কারণে তীব্র গরমে দিশেহারা হয়ে পরেছেন ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। ওয়ার্ড এবং বাথরুম ব্যবহার অনুপযোগী। রয়েছে ডাক্তার এবং চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট।
হাসপাতালের পরিচালক ও স্বীকার করেছেন সিসিইউ বিভাগের দুরাবস্থার কথা। অপরদিকে বরাদ্দ না থাকায় সিসিইউ বিভাগের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন সচল করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনের পূর্ব পাশে ‘আই’ এবং ‘এফ’ ব্লক ঘেঁষে মুমূর্ষ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০২ সালে। মোট ১২টি শয্যা রয়েছে এ বিভাগে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৪৮জন রোগী। এ কারণে শয্যা ছেড়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে স্থান হয়েছে রোগীদের। এ বিভাগের একমাত্র এনজিওগ্রাম মেশিনটিও দীর্ঘ ছয়মাস ধরে বিকল। এ কারণে হৃদযন্ত্রে রিং পড়ানো ও পেসমেকার পরানোসহ সব সেবা বন্ধ রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সিসিইউ বিভাগের ডাক্তার ও নার্সরা সহনশীল নয়। ডাক্তার ও নার্সদের কাছে কিছু বলতে বা জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগীরা। তারা এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, একজন রেজিস্ট্রার এবং তিনজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সিসিইউ বিভাগের রোগীদের। পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে মাত্র একজন।

হৃদ রোগীদের সিসিইউ বিভাগে ডাক্তার ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসি মেশিন বিকলসহ নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুতসময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি আশা করেন।

হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের মেডিকেল উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, সিসিইউ বিভাগের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনগুলো বহু পুরনো হওয়ায় সেগুলো কার্য¶মতা হারিয়েছে। এর আগে একবার মেরামত করা হলেও বেশিদিন ব্যবহার করা যায়নি। সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন সচল করাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা হবে।

 

 

#আপন_ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর