ফটিকছড়ির বাগানবাজার এলাকার মোহাম্মদপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাগ্নেদের লাঠির আঘাতে সাবেক এক প্রধান শিক্ষকসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার(২৮ জানুয়ারি) দুপুরে জমিতে অবৈধভাবে পিলার বসাতে বাধা দিলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আব্দুস সাত্তার (৭৫) মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হাজী দুদু মিয়ার ছেলে এবং রামগড় বৈদ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় তাঁর তিন ছেলে ওয়ালী উল্লাহ, ছফি উল্লাহ ও ওমর ফারুক আহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান , ভাগ্নেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সাত্তারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আজ সকালে মামুন, এরশাদ ও জসিমের নেতৃত্বে জমিতে জোরপূর্বক পিলার বসাতে গেলে আব্দুস সাত্তার ও তাঁর ছেলেরা বাধা দেন। এ সময় মামুন, এরশাদ, আনোয়ার, মফিজ ও শফিকুলের নেতৃত্বে দা, ছুরি ও লাঠিসহ প্রায় ৫০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় লাঠির আঘাতে আব্দুস সাত্তারের মাথা ফেটে যায়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ছেলেরাও মারাত্মকভাবে আহত হন।
আহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়ালী উল্লাহ বলেন, তাঁর দাদার সম্পত্তি এখনো ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি। এ সুযোগে তাঁর ফুফাতো ভাইরা অন্যায়ভাবে জমি দখল করে সেখানে পিলার বসাতে যান। এতে বাধা দিলে মামুনের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জন সন্ত্রাসী তাঁর বাবা ও ভাইদের ওপর হামলা চালায়। এতে তার বাবার মাথায় ৬ সেলাই দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থামিয়ে তাঁর ওপরও অতর্কিত হামলা করা হয়, এতে তিনি নিজেও আহত হন। পরে আহত বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তা অবরোধ করে আবারও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ছোট ভাইয়ের ট্রাক ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয় এবং ট্রাকের চাবি নিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান , তাদের পক্ষের লোকজনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে গেলে তাদের পক্ষের কাওকে পাওয়া যায়নি।
রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকসানা ইয়াসমিন জানান, আব্দুস সাত্তার মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছ।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।