নষ্ট সরকারি ডিএপি সার রোদে শুকিয়ে নতুন করে বিক্রির চেষ্টা, ১৬০০ বস্তা জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা। যশোরের অভয়নগরে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার এক ভয়ংকর চিত্র উন্মোচন করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি বরাদ্দের নষ্ট ডিএপি সার রোদে শুকিয়ে ও মেশিনে গুঁড়া করে নতুন মোড়কে বাজারজাত করার প্রস্তুতিকালে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামের ভৈরব নদের তীরবর্তী বড়ঘাট এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানকালে দেখা যায়, ভৈরব নদের পাড়ে খোলা মাঠে দুটি বড় স্তূপে রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৬ বস্তা সরকারি ডিএপি সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি)। সারগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো রোদে শুকানো হচ্ছিল এবং পরে মেশিনে গুঁড়া করে নতুন প্যাকেটে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল। জব্দ করা সারের মালিকানা দাবি করে ‘বঙ্গ ট্রেডার্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি বিপ্লব হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে অপরাধ স্বীকার করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ এই নষ্ট সার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুন বলেন, সরকারি নষ্ট সার এভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে কৃষকরা প্রতারিত হন এবং জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অভিযানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান, অভয়নগর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এই কঠোর অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষক ও কৃষিজমির ক্ষতি করে এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।