বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন

ই-পেপার

নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার পাবনায় চালু হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নব দিগন্তের সূচনা হবে

রফিকুল ইসলাম সজীব, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার দেশের কয়েকটি জেলায় নতুন ৮টি নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছেন। তারই ধারবাহিকতায় পাবনা মেডিকেল কলেজ চত্বরে (কাশিপুর হাট সংলগ্ন) নির্মাণাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতায় এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে পাবনাবাসীর এক নব দিগন্তের সূচনা হবে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে যে সুযোগ সুবিধা থাকছে সেগুলো হলো, স্পেস্ট সিটি, বিএমডি, কালার ডপলার মেশিন, অটোমেটিক গামা কাউন্টার, থাইরয়েড ক্যামেরা, থাইরয়েড আপটেক সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সম্পন্ন টেস্ট ও চিকিৎসার সুযোগ। এই প্রকল্পের সকল কার্যক্রম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পারমানবিক শক্তি কমিশন হতে নিয়ন্ত্রন ও মনিটরিং করা হবে। আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. স. ম. আব্দুর রহিম পাকন বলেন, তিনি ১৯৮৩-২০১৩ খ্রি. পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি কমিশন, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়াতে চাকরিতে ছিলেন। সেই সুবাদে বাংলদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর একটা আন্তরিক সখ্যতা গড়ে উঠে। এক সময় জানতে পারলেন বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সেই সূত্রে তাঁর কাছে প্রশ্ন জাগলো এই ধরনের একটি বৃহত প্রকল্প কিভাবে পাবনায় প্রতিষ্ঠা করা যায়? পরবর্তীতে তিনি প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পারমানবিক শক্তি কমিশনের তৎকালীণ চেয়ারম্যান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান। আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সাবেক এই কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. স. ম. আব্দুর রহিম পাকন এর বিষয়টি যথাযথ সম্মান দিয়ে গুরত্বের সাথে প্রকল্পটি তালিকাভূক্ত করার জন্য কমিশন উদ্যোগ গ্রহন করেন। সেই সাথে কমিশন থেকে কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ন বিষয়ক তাঁকে কিছু দিক নির্দেশনা দেন। পাবনাবাসীর বৃহত্তর সার্থে তিনি তাঁর কর্মস্থল আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি কমিশন, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া থেকে ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। বিষয়টি নিয়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এর সাথে বিস্তারিত আলাপ করেন। গোলাম ফারুক প্রিন্স বিষয়টি শুনে অত্যান্ত খুশি হয়ে জরুরী ভিক্তিতে ডিও লেটার এবং মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের স্থান নির্ধারণী চিঠি’র ব্যবস্থা করে দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে পাবনা মেডিকেল কলেজের মধ্যে স্থান নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যর ডিও লেটার ও কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক স্থান নির্ধারণের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে মন্ত্রাণালয় ও পারমানবিক শক্তি কমিশনের নিকট জমা দেওয়া হয়। স্বপ্নের সেই “নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার” আজ সত্যিই বাস্তবায়নের পথে। ২০২২ খ্রি. মধ্যেই এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার সাথে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হলে পাবনাবাসীর এক নব দিগন্তের সূচনা হবে। মানুষ অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবে। সেই সাথে দুরবর্তী স্থানে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করতে অর্থ এবং সময়ের অপচয় হবে না। জটিল রোগাক্রান্ত ব্যাক্তির স্বজনদের পাশে থেকে ভোগ পোহাতেও হবে না। প্রকল্প পরিচালক মজিবুর রহমান “নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার” নির্মান কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার হোসেনের নির্দেশক্রমে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করার জন্য নিরর্লসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাকে সার্বক্ষণিক প্রকল্পের সহকারি পরিচালক হাবিবুল্লাহ পাশে থেকে কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা বীর মুক্তযোদ্ধা আ. স. ম. আব্দুর রহিম পাকন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স কে পাবনাবাসী আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেন।

 

 

#আপন_ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর