নানা ধরনের ফলমুল এবং মৌসুমী সবজির জন্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার পরিচিতি দেশ জুড়ে। কিন্তুু রামগড়ে হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মৌসুমি ফল ও সবজি।এ উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় কৃষকরা অতিকষ্টে বিভিন্ন তরিতরকারি ও ফলমূল উৎপাদন করছে।কিন্তুু মজুদ করে রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কম মূল্যে এসব কৃষি পণ্য বিক্রি করতে হয়।এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাদের দাবি,রামগড় উপজেলায় একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মৌসুমি সবজি ও ফল সেখানে রাখতে পারবেন। এতে তারা এসব পণ্যের ন্যায্য মূল্য যেমন পাবেন তেমনি বিপুল পরিমাণ সবজি ও ফল নষ্ট হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবে।
রামগড় উপজেলায় কৃষকদের উৎপাদিত তরি-তরকারি ও ফল মুলের মধ্যে রয়েছে -আলু,মিষ্টি আলু,আদা,কাঁচা মরিচ,হলুদ, টমেটো,শসা বেগুন,কুমড়া ও ফলমুলের মাঝে কলা, আনারস,পেঁপে,কাঁঠাল ও আমসহ অনেক ফল।এসব কাঁচামাল সাধারনত পঁচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ করার প্রয়োহজন পড়ে।
রামগড় উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,এবছর সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছ। বেশিরভাগ কৃষক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফসল উৎপাদনে মাঠে নেমেছিলেন।যার কারণে ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।তাছাড়া এই এলাকায় যে পরিমাণ মৌসুমি ফল উৎপাদান হয় এতে জেম, জেলি, জুস ও বিভিন্ন প্রকার আচারের কারখানা করা যায় অনায়াসে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এলাকায় এখনও এই ধরনের কারখানা গড়ে উঠেনি। কাঁঠাল, আনারস, লিচু, আমসহ বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াজাত করে সারা বছরই সংরক্ষণ সম্ভব। এমনকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা যায় সংরক্ষিত ফলের রস।
রামগড় পৌরসভার মহামুনি এলাকার কৃষক বাহার উদ্দীন বলেন,লক্ষমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হয়েছে অনেক।কিন্তুু ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিনা।তারমতে সবাই বাজারে একসঙ্গে ফসল বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।এতে নষ্ট হওয়ার আশংকায় ফসল দ্রুত বিক্রি করতে হয়।ফসল সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা বা হিমাগার না থাকায় সস্তায় বিক্রি করতে হয়।এতে কৃষিপণ্যের দাম দিনদিন নিম্নমুখী হচ্ছে।
স্থানীয় আরো কয়েকজন কৃষক বলেন,রামগড়ে হিমাগার না থাকায় স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়।যার ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে পাইকারি বিক্রি করে দিতে হয়।এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।কৃষকেরা আরো বলেন, রামগড়ের সাথে প্বার্শবর্তী উপজেলা গুইমারা,মাটিরাঙ্গা ও মানিকছড়ির যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় হিমাগার স্থাপন হলে সেখানকার কৃষকেরাও উৎপাদিত কৃষিপণ্য হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারবে।
রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব ত্রিপুরা বলেন,প্রতিবছর কৃষকেরা বিপুল পরিমাণ টাকা লগ্নি করে চাষাবাদ করলেও হিমাগার না থাকায় তাঁরা লাভের মুখ দেখছেন না। মৌসুমের শুরুতে কৃষিপণ্যের দাম পাওয়া গেলেও এরপর দাম পড়ে যায়। বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে।তিনি আরো বলেন হিমাগার না থাকার বিষয়টি খাগড়াছড়ি আসনের সাংসদ কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে জানাবেন।এবং হিমাগার স্থাপনে তিনি সর্বাত্মক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
#আপন_ইসলাম