কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া ডাকাতির উপদ্রব রুখতে ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। ইউনিয়নের প্রধান ডাকাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আরিফের তত্ত্বাবধানে রাত জেগে পাহারায় নেমেছে ২০ সদস্যের একটি চৌকস তরুণ দল। গত ৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম চলবে ঈদুল ফিতরের আগের রাত পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের করির টেক এবং কালো রোশন মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাতদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষ যখন শহর থেকে কেনাকাটা করে রাতে বাড়ি ফেরেন, তখন এই পয়েন্টগুলোতে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আরিফের এই উদ্যোগে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট আরিফ উল্লাহ, জিয়াউল হক জিয়া, এহেসান, নূর মোহাম্মদ মুন্না, রাসেলসহ স্থানীয় সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গ।
অ্যাডভোকেট আরিফের নির্দেশনায় ২০ জন তরুণ দুই দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন। এই উদ্যোগের ফলে গত কয়েকদিনে এলাকায় চুরি-ডাকাতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাজ্জাদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “বিএনপির এই উদ্যোগ শুধু প্রশংসনীয় নয়, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এমন জনকল্যাণমূলক কাজ ভারুয়াখালীর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আগামী প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা নেবে।”
বিশেষ সেবা ও জরুরি যোগাযোগ:
স্বেচ্ছাসেবীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রাত ১টা পর্যন্ত মাঠে থাকার পাশাপাশি এরপরও যদি কেউ রশিদনগর থেকে ভারুয়াখালী আসতে চান, তবে স্বেচ্ছাসেবী টিমকে জানালে তারা নিজস্ব গাড়িতে করে যাত্রী এগিয়ে নিয়ে আসবে। জনসাধারণের সুবিধার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জরুরি মোবাইল নম্বরগুলো প্রচার করা হয়েছে:
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আরিফ: 01614-074630
জিয়াউল হক জিয়া: 01818-921445
জোসেফ: 01819-663467
নূর মোহাম্মদ মুন্না: 01876-007153
রাসেল ইকবাল: 01865-370292
এই নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কক্সবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
এদিকে, কক্সবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বিএনপির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং জনসেবামূলক কাজে তরুণদের এই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেছেন।
উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আরিফ বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভারুয়াখালীর মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদ কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। দেশ ও প্রবাস থেকে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা পেলে এই কার্যক্রম আমরা নিয়মিত চলমান রাখার পরিকল্পনা করছি।”