শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী সুরে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এখন চোখ জুড়ানো দৃশ্য, দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষা ফুলের সমাহার। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফোটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ ফুল যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক অনবদ্য চিত্রকর্ম। সকালের নরম রোদে আর হালকা বাতাসে দোল খাওয়া সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে গ্রামের পর গ্রাম।
অভয়নগরের নওয়াপাড়া, সিদ্ধিপাশা, শংকরপাশা, দেয়াপাড়া, শ্রীধরপুর, প্রেমনগর ও সুন্দলী ইউনিয়নের মাঠগুলো এখন সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মোড়ানো। কাঁচা সবুজের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়ানো হলুদ ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং কৃষকের মুখেও এনে দিয়েছে আশার হাসি।
কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন বেশ ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা। সরিষা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় অনেক কৃষকই ধান কাটার পর জমিতে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। সরিষার বাম্পার ফলন হলে ভোজ্যতেলের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দলী এলাকার কৃষক আব্দুল আলীম বলেন,
এ বছর মাঠভরা সরিষা দেখে মনটা ভরে যায়। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে ফলন ভালো হবে আর আমাদের লোকসান গুনতে হবে না।
সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন মাঠের ধারে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। হলুদ ফুলের পটভূমিতে গ্রামের কাঁচা রাস্তা আর খাল-বিল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক মনোরম গ্রামীণ দৃশ্য।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগরে চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে। সরিষা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরিষা ক্ষেতের ভূমিকা অপরিসীম।
হলুদ সরিষা ফুলে ভরা অভয়নগরের মাঠ যেন গ্রামবাংলার বসন্ত উৎসবের এক নীরব আহ্বান। এই সৌন্দর্য যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি কৃষকের অর্থনৈতিক স্বপ্নকেও নতুন করে রঙিন করে তোলে। প্রকৃতি আর মানুষের এই মেলবন্ধনই অভয়নগরের মাঠে মাঠে আজ হয়ে উঠেছে সোনালি গল্পের প্রতিচ্ছবি।