বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

ই-পেপার

অভয়নগরে সরখোলা থেকে কালিবাড়ি: উন্নয়নহীন সড়কে প্রতিদিনই ঝুঁকির যাত্রা

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর ):
আপডেট সময়: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন উল্টে যাচ্ছে ইজিবাইক-ভ্যান, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা; বর্ষার আগে জরুরি সংস্কারের দাবি।

 

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সরখোলা থেকে কালিবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি এখন যেন জনদুর্ভোগের আরেক নাম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং। ফলে ইজিবাইক, ভ্যান এমনকি মোটরসাইকেল চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় পুরো সড়কজুড়েই ভাঙাচোরা অবস্থা। কোথাও ইট বেরিয়ে এসেছে, কোথাও জমে আছে পানি। বিশেষ করে বাজারসংলগ্ন অংশ ও নিচু এলাকায় খানাখন্দ এতটাই গভীর যে, ইজিবাইক চলতে গেলেই ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে অন্তত কয়েক ডজন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, কেউ আবার হাসপাতালে গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চলাচল করেন। কিন্তু এখন রাস্তাটা একেবারেই অনুপযুক্ত। বর্ষা এলে তো চলাচল বন্ধই হয়ে যাবে। আরেক ইজিবাইকচালক জানালেন, যাত্রী নামিয়ে অনেক সময় খালি গাড়ি ধীরে ধীরে নিয়ে যেতে হয়। তবুও হঠাৎ চাকা গর্তে পড়লে গাড়ি কাত হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির একটি অংশ অভয়নগর এবং অপর অংশ মনিরামপুর উপজেলার আওতাভুক্ত। দুই উপজেলার প্রশাসনিক সীমা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির উন্নয়নকাজে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে সংস্কার উদ্যোগ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসী বলছেন, এ সড়কটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এই পথই প্রধান ভরসা। কিন্তু অবহেলা ও সমন্বয়হীনতায় সাধারণ মানুষকেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসছে। বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দ আরও গভীর হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। তারা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্থায়ীভাবে টেকসই কার্পেটিং করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়। এখন দেখার বিষয়, দুই উপজেলার সীমানা জটিলতা কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বস্তির মুখ দেখবে সরখোলা–কালিবাড়ি সড়কের হাজারো পথচারী।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর