বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

ই-পেপার

ভাঙ্গুড়ায় বাড়িতে ঢুকে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী (পেশায় পাটুনী) সুমি রানী (২৬) নামের এক গৃহবধূকে তার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে মহারম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের হিন্দু পল্লীতে ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহরম আলি ওই গৃহবধূকে মারধর করার পর বিষয়টি কোথাও প্রকাশ করলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকিও প্রদান করা হয়েছে। আহত গৃহবধূ এলাকার বাসু দেবের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে কোথাও অভিযোগ দিচ্ছেন না এবং গোপনে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওই গৃহবধূ যেন বাহিরে যেতে না পারে সে কারণে মহরম গং কঠোর নজরদারীতে রেখেছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্ত্রী জয়দেব চৌধুরী বেশ কয়েক বছর পূর্বে তিন কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এরপর তার বিধবা স্ত্রী অনিমা রানী তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তার মেজ মেয়ে ইন্ডিয়াতে চলে গেলে বড় মেয়ে এবং ছোট সুমি রানী কে নিয়ে স্বামীর ভিটাতে বর্তমানে বসবাস করছেন। তার দুই জামাই সুকুমার ও বাসুদেব দিন মজুরের কাজ করে। ছোট মেয়ের জামাই বাসুদেব দিনমজুরের কাজ করার কারণে পার্শ্ববতী মৃত হয়রত আলীর ছেলে মহরম আলীর বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করেছে একাধিক দিন। সেই সুবাদে বাসুদেবের বাড়িতে মহরমের যাতায়াত রয়েছে ।

 

ঘটনার দিন দুপুরের দিকে বাসুদেব ও সুকুমার দুই ভায়রা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে থাকলে মহরম এই সুযোগে বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে প্রবেশ করে বাসু দেবের স্ত্রী সুমি রানীর কাছ থেকে টাকা দাবি করে। মহরম বলেন যে,‘ তোর স্বামী আমার নিকট থেকে টাকা ধার নিয়েছে সেই টাকা ফেরত দাও এখনই’। কিন্তু সুমী রানি বলেন,‘ টাকা দেয়ার সময় তো আমাকে জিজ্ঞেস করে দেননি। টাকা যে নিয়েছে তার কাছে গিয়ে টাকা চান।’ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মহরম সুমি রানীর ঘরে প্রবেশ করে লাঠি দিয়ে বেঁধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সুমি রানীর মা অনিতা রানী ঠেকানোর জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে চলে যায়। আহতদের চিৎকার চেচামেচিতে বিষয়টি জানাজানি করলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। সেইসঙ্গে মহরম গং সে যেন বাড়ির বাহিরে যেতে না পারে এ কারণে কঠোর নজরদারিতে রেখেছেন।

 

এ ঘটনা জানাজানি হলে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাফফর আলী তাদেরকে বাহিরে যেতে নিষেধ করেন এবং বিষয়টি তিনি দেখে শুনে মীমাংসা করে দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় চিকিৎসককে সুমি রানীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য মোজাফফর ও মহারম মিলে ওই হিন্দু পরিবারের বসত বাড়ির জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বেড়া নির্মাণ করে অবরুদ্ধ রেখেছিল। এই ঘটনার পর থেকে সংখ্যালঘু পরিবারের ওই সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

 

জানা গেছে, মহরম দহপাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে ও তিন সন্তানের জনক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. লোকমান হোসেনের আপন ভাগ্নে। সে কারণে তিনি ওই এলাকাতে বেশ প্রভাবশালী।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, মহরম একজন উশৃংখল এবং ক্ষমতার দাপট দেখায়। সে কারণেই ওই গৃহবধূকে বাড়িতে প্রবেশ করে বেধড়ক পিটিয়েছে।

 

ঘটনার বিষয়, সুমি রানির মা অনিতা রানী বলেন, আমাদের এখানে কেউ নেই, এজন্য তারা আমাদের বাড়ির উপর এসে আমাদেরকে ঘরে ঢুকে মেরে যায়। আমরা বিচার পাব কোথায়?

 

ঘটনার বিষয় জানতে অভিযুক্ত মহরম কে তার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কেটে দেন আর পুনরায় ফোন রিসিভ করেন নি। এই ঘটনার বিষয়ে মহরমের স্ত্রী জানান, হিন্দু পাড়ায় বাসু দেবের স্ত্রী সঙ্গে মহরমের একটা ঘটনা হয়েছে যা তিনি শুনেছেন।

 

ঘটনার বিষয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ মোজাফফর হোসেন বলেন, টাকা পাওয়া নিয়ে মহরম বাসু দেবের বউকে (সুমি রানী) মেরেছে বিষয়টি তিনি জানার পর বাসু দেবের বউ সুমির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর