ডিভোর্স দেয়ায় পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত নার্সকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে সেনা সদস্য পলাতক রয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিক বাইন গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে সেনা সদস্য মো. আমিরুল ইসলামের সাথে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়া পাড়ার শাজাহান আলীর মেয়ে সুলতানা জাহান ডলির প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিন বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
বিয়ের পর দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হলে দুই দফা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে ফের তারা সংসার শুরু করে। সম্প্রতি সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুলতানা জাহান ডলি যোগদান করেন। এরমধ্যে আবার তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে ডলি ৩ জানুয়ারি সেনা সদস্য আমিরুলকে ডিভোর্স দেন। এতে আমিরুল ক্ষিপ্ত হয়ে ডলিকে প্রাণনাশের হুমকি ছাড়াও তার নগ্ন ছবি হাসপাতালের অন্যান্য নার্সের মোবাইলে ছড়িয়ে দিয়ে চরিত্র হরণের অপচেষ্টা করেন। এ ঘটনা প্রেক্ষিতে ডলি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হাসপাতালের ডিউটি শেষে সকাল আটটার দিকে বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সেনা সদস্য আমিরুল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ঢুকে দায়িত্বরত ডলিকে ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায়,পেটে এবং হাতে উপর্যপুরী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় ডলির চিৎকারে হাসপাতালের দায়িত্বরত অন্যান্য সহকর্মীরা এসে তাকে জরুরী চিকিৎসা দেয়।
এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, ওই নার্সকে আমাদের এখানেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের পারিবারিক কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ওই ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি সেনা সদস্য হওয়ায় এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ঘটনাটি অবগত করা হয়েছে এবং আসামী আমিরুলকে গ্রেফতারে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।