বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

অভয়নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অনুমতি ছাড়া নির্মাণে ছড়াছড়ি, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় দ্রুত নগরায়ণের সাথে সাথে গড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন। তবে এসব ভবনের বড় একটি অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে, নেই সঠিক নকশা অনুমোদন কিংবা নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুসরণ। ফলে এলাকাজুড়ে দিন দিন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা, আর এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নওয়াপাড়া পৌরসভা ও পাশের ইউনিয়ন এলাকাগুলোয় গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বহু বহুতল ভবন ও মার্কেট। কিন্তু এর বেশিরভাগ নির্মাণই হয়েছে রাজউক ও স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি ছাড়াই। কোথাও কোথাও পুরনো ও জীর্ণ ভবনের ওপর নতুন তলা যুক্ত করা হয়েছে, আবার কোন ভবনে সঠিক পাইলিং বা মানসম্মত উপকরণও ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তার চেয়ে লাভকে প্রাধান্য

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ভবন নির্মাণে ন্যূনতম স্ট্রাকচারাল ডিজাইন না মেনে কাজ করা হচ্ছে। ভূমিকম্প বা ভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব ভবন ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও শিথিল তদারকি। এলাকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পাশের ভবনটি পুরনো ও ফাটলধরা। তবুও মালিক আরও দুই তলা তুলেছেন। আমরা ভয় নিয়ে বসবাস করছি, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার কাছেও একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণের আগে, নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র,নির্মাণ তদারকি সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড, এসব অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলেও, অভয়নগরের বহু নির্মাণ কার্যক্রমেই এসব ধাপ উপেক্ষিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমতি ছাড়া নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। অবৈধ ও অনিরাপদ ভবনের বিরুদ্ধে শিগগিরই উচ্ছেদ ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ভবন মালিকদের আইন মেনে নির্মাণ করার আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজন কঠোর ব্যবস্থা

স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করে, শুধু নোটিস বা জরিমানায় সমস্যার সমাধান হবে না। জরুরি ভিত্তিতে, সব ভবনের প্রবিভাগভিত্তিক জরিপ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তকরণ, মালিকদের বাধ্যতামূলক রেট্রোফিটিং, অবৈধ নির্মাণে জিরো টলারেন্স, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভবন ধস ঘটার পর তদন্ত কমিটি করে লাভ নেই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এখনই শনাক্ত না করলে অভয়নগরে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর