কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এবং উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ডাকযোগে হত্যার হুমকি দিয়ে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার সকালে শাহজাহান চৌধুরীর বাসভবনে ডাকযোগে একটি বিশেষ খাম আসে। খামটি খোলার পর সেখানে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড় এবং হাতে লেখা একটি হুমকি সংবলিত চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে তাকে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সাবেক এই জাতীয় সংসদের হুইপ এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদের ওপর এমন প্রকাশ্য হুমকিতে কেবল দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার-৪ আসনটি (উখিয়া-টেকনাফ) অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় রাজনৈতিক বোদ্ধারা একে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, একজন জনপ্রিয় হেভিওয়েট প্রার্থীর জীবন যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উখিয়া ও টেকনাফে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলীয় নেতারা একে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ অভিহিত করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে শাহজাহান চৌধুরীর নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চিঠির উৎস শনাক্ত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন। যে ডাকঘর থেকে এটি পাঠানো হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহজাহান চৌধুরী ও তার বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক এই সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই এখন জনগণের একমাত্র প্রত্যাশা। শাহজাহান চৌধুরীর মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “শাহজাহান চৌধুরীর মতো একজন বর্ষীয়ান নেতার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করব।”