নিয়মিত পিপিআর টিকা করি,পিপিআর মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে পিপিআর রোগ নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের আয়োজনে গৃহপালিত পশু ছাগল ভেড়ার ক্ষুরা রোগ নির্মুলে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজ হাট এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বিনামূল্যে পিপিআর রোগের গণ টিকা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওসমান গণি এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড.নজরুল ইসলাম।
এসময় তিনি বলেন, পিপিআর একটি মারাত্মক রোগ এই রোগ হলে শতভাগ ছাগল মারা যায়। ২০২৬ সাল নাগাদ এই রোগ কে নির্মূল করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশে বিনা পয়সায় প্রতিটি ছাগল কে টিকা প্রদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই রোগটিকে নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং মৃত্যুর হার কমানো গেলে দেশে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি পাবে।
টিকাদান কেন্দ্রে ছাগল নিয়ে আসা শিল্পী রাণী (৪৫) জানান, আমি অনেকদিন থেকেই ছাগল পালন করি প্রতি বছরের বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে ছাগল পালনের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই এবং লোকসান মুখে পড়ি পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদের সহযোগিতা নিয়ে ছাগল পালন শুরু তাদের পরামর্শে পিপিআর টিকা সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা করি এখন আর আমার ছাগলের কয়েক বছর থেকে কোন রোগ বালাই নেই তাই ছাগল পালনে প্রতিবছরই বেশ লাভবান হচ্ছি।
একই কথা জানিয়েছেন বিলম রায় (২০) তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকেই ছাগল পালন করি আমার আটটি ছাগল আছে আজ এই টিকাদান কেন্দ্রে বিনামূল্যে আমার ছাগলগুলোকে টিকা দেওয়া হল এতে করে আশা করা যায় কোন রোগ বালাই হবে না আমি এজন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: ওসমান গনি জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগে নির্মূলে টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের টিকাদান কর্মীরা প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে এই টিকা দান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক ছাগল বেড়েছে এবং রোগের পরিমাণ কমেছে।বিশেষ করে এই প্রকল্পটি ছাগল ভেড়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ছাগল ও ভেড়া পালনকারী ব্যক্তিরা সেবা পাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুর রহিম,জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ড.আশিকা আকবর তৃশা, বীরগঞ্জ প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: ওসমান গণি সহ আরো অনেকেই।