পাবনার ঈশ্বরদীতে বস্তির রানী আলেয়া বেগমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব নূর মহল্লায় (বস্তিপাড়া) এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ এনে নূর মহল্লার বাসিন্দা রিক্সা চালক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজী, দেহব্যবসা, নারী পাচার ও রমরমা মাদক ব্যবসা করে পুরো এলাকায় নিজের আধিপত্য গড়ে তুলেছেন এই আলেয়া বেগম। অভিযোগ রয়েছে আইন শৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে একাধিক অপকর্ম করেও শাস্তির আওতায় না আসা আলেয়া এখন পূর্ব নূর মহল্লা বাসীর আতঙ্কের নাম। দেশের চলমান রাজনীতির সাথে তাল মিলিয়ে কখনো আওয়ামীলীগের নেত্রী আবার কখনো বিএনপির নেত্রী পরিচয় দিয়ে এলাকায় দখলবাজীতে শীর্ষে থাকা আলেয়া বেগম এর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী এসব অভিযোগ এনে তার নির্যাতন থেকে মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত আলেয়া বেগম অত্র এলাকার মো: সেন্টুর স্ত্রী এবং ঈশ্বরদী ঠাকুরবাড়ী এলাকায় ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা। অভিযোগে তিনি আরোও বলেন, আমার মেয়ে জামাই দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারা ২,৬০,০০০/= (দুই লক্ষ ষাট) হাজার টাকায় একটি বাড়ী ক্রয় করে। পরে সেই বাড়ীতে গিয়ে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন আলেয়া বেগম। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় আলেয়া বেগম আমি সহ আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে উক্ত বাড়ীর দলিল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় এবং দলিলযার জমি তার বলে হুমকি দেয়। পরে অপারগ হয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় মিলে আলেয়া বেগমকে ৩৩ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে সেই দলিল মুক্ত করা হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী মোছাঃ লায়লী বেগম বলেন, আমি প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধারের ৯০ হাজার টাকা পেতাম। আমার স্বামী মৃত্যুর পর সেই টাকা পেতে চক্রান্ত শুরু করেন আলেয়া বেগম। এক পর্যায়ে বিচারের মাধ্যমে আমাকে ৪০ (চল্লিশ) হাজার মওকুফের মাধ্যমে বাঁকি ৫০ হাজার দেয়া হবে বলে বিচার সমাপ্ত হয়। বিচার অনুযায়ী সেই ৫০ হাজার টাকা না দিয়ে আলেয়া ১০ হাজার টাকা আমাকে দেয়। সেটাও যদি আমি না নেই তাহলে আমার সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেয় এই আলেয়া বেগম। প্রতিবেশি এবং প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মোছাঃ রেশমা বেগম বলেন, আমি শারিরিক ভাবে অক্ষম হওয়ায় আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই বিয়ে করার অপরাধে আলেয়া আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে এই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় আমার গহনা বন্ধক রেখে আলেয়া বেগমকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হই। ভুক্তভোগী মোছাঃ ইমা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর সাথে বিতন্ডায় জড়ানোর অপরাধে আলেয়া এসে জোঁর-পূর্বক ভাবে আমাদের তালাক করান। পরে আমার দেনমোহরের ৪০ হাজার টাকা আমাকে না দিয়ে আলেয়া বেগম নিয়ে চলে যায়। যার এক টাকাও আমাকে দেয়নি। শুধু এরাই নয় অত্রাঞ্চলের রুপালী বেগম এর ১৪ হাজার, সুফিয়া বেগম এর ১০ হাজার, স্বাক্ষী না দেওয়ায় রজব আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দিপালীর গাড়ী ছিনতাই, মোছাঃ সুখী বেগম এর সংসার বাঁচাতে মিষ্টি বাবদ ৫ হাজার, নিপার বন্ধকী জমির দলিলের জন্য ১৫ হাজারের চাঁদা, অনাদায়ে মাস্তান দিয়ে হেনস্তার হুমকি, কামরুল সহ অত্রাঞ্চলে আরও অনেকেরই গল্পের নায়ীকা এই আলেয়া বেগম। ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসী এই মাফিয়া আলেয়া বেগম এর ছোবল থেকে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ভুক্তভোগীরা আলেয়া বেগম এর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নূর মহল্লার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সম্মেলন স্থানে এসে শেষ হয়।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈশ্বরদীতে মাদক আর চাঁদাবাজদের কোন ঠাই হবে না। সে যেই হোক, তাকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা হবে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।