পাবনার চাটমোহর থানা পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় (মামলা নং ১৮) একসপ্তাহে বিএনপি জামায়াতের ২১ নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরে ঘুমাতে পারছেন না বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে বারোটার দিকে পাবনার চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের সুনীল রোজারিও’র বাগানে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীরা একত্রিত হয়ে সরকার উৎখাত, নাশকতা ও কোটা বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে গোপন মিটিং করছেন এমন অভিযোগে এ মামলা হয়।
মামলার বাদী মথুরাপুর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের সভাপতি ফারুক হোসেন। মামলায় আনকুটিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, বাঙ্গাল্লা গ্রামের আলামিন হোসেন, কুবিরদিয়ার গ্রামের ফারুক হোসেন, পৌর সদরের রফিকুল ইসলাম আরজু ও সবুজ হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় ২১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত চাটমোহর থানা পুলিশ বিএনপি জামায়াতের ২১ নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ চাটমোহর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মনির উদ্দিন ওরফে মনি, পৌর ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক আব্দুল বাতেন, বিলচলন ইউনিয়ন কুমারগাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা গোলজার হোসেন, মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও বালুদিয়ার গ্রামের সাহেব আলী, জামাল উদ্দিন ওরফে জাইদুল, ফৈলজানা এলাকার রেজাউল করিম, মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক পালন, হান্ডিয়াল ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক দরাপপুর গ্রামের গোলজার হোসেন, শিবপুর গ্রামের মোবারক হোসেন, মথুরাপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমান, দোদারিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা সুরুজ, বড় দুবলাপাড়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ব্যাপক ভাবে ধরপাকড় শুরু হওয়ায় বিএনপি জামায়াতের অনেক নেতা কর্মী এখন আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।