বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
লামায় ফাঁসিয়াখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে একজন নিহত পাবনা-৪ নবনির্বাচিত এমপি’র সাথে আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: আরিফুর রহমান আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ কন্দ ফসলের উৎপাদনের উপকরণ বিতরণ আটোয়ারীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা চৌহালীতে বালুবাহী বল্কহেড চলাচলে যমুনা নদীর পুর্ব তীর রক্ষা বাধ হুমকিতে পড়েছে চাটমোহরে মানবিক ছোঁয়া: অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে নবনির্বাচিত এমপি ও উপজেলা প্রশাসন আটোয়ারীতে তিন দিনব্যাপি কৃষক-কৃষাণী ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

কলেজের অফিস সহকারীর গাফিলতির কারনে অনার্স চান্স পাওয়া শাহনাজের পড়ালেখা অনিশ্চিত

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) নান্দাইল:
আপডেট সময়: সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের অফিস সহকারীর (মাস্টারোল) দায়িত্বে অবহেলার কারনে অনার্স ভর্তি প্রত্যাশী এক ছাত্রীর পড়ালেখা প্রায় অনিশ্চিতের মুখে। বর্তমানে সে অনার্সে ভর্তি না হতে পেরে বাড়িতে বসে বসে দিন পাড় করছে। এতে পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অবহেলিত সদস্য মনে করছেন নিজেকে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম শাহনাজ পারভিন, সে উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের জালাল  উদ্দীনের মেয়ে। শাহনাজ পারভিন ২০২০/২১ শিক্ষাবর্ষে  শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করে ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ১৭১০২৬৪৪৩৬ এবং রোল নাম্বার ২০৭৮২৬। পরবর্তীতে অনার্স এডমিশনের জন্য কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে বোটানি ডিপার্টমেন্টে চান্স পায়। ভর্তির সময় বেশিদিন না থাকায় অনার্স ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উঠানোর জন্য গত (২৯ মে) শনিবার সকাল ১০টায় কলেজে উপস্থিত হলেও কলেজের অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান সাজু কাগজপত্র দিতে নানান তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ উক্ত শিক্ষার্থীর। উক্ত দদিনটিই ছিলো শাহনাজের অনার্স ভর্তির শেষ দিন।
শাহনাজ পারভিন জানান, আমি আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো তাড়াতাড়ি ঘুছিয়ে দিতে বললে অফিস সহকারী সাজু ভাই আমার কথায় কর্নপাত করেননি।  বরং নানান কথাবার্তা বলে সময় নষ্ট করছিলো। তিনি আমাকে বলেন, তোমাদের স্যার আমাকে এত কাজের চাপে রাখেন কিন্তু বেতন তো বেশি দেয়না। তাই আমার মত করেই কাজ করবো। এই বলে সে আমার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়নি। এর মাঝেও আমাকে দাড়িয়ে রেখে আরো কয়েকজনের কাগজপত্র রেডি করে দিয়েছেন ওনি। এক পর্যায়ে আমি নিরুপায় হয়ে কাঁদতে শুরু করি। পরে কলেজ দপ্তরি আব্দুর রহিম ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি আমার কাগজপত্র হাতে পেলেও তখন দুপুর ১টা বেজে যায়। পরে কাগজপত্র নিয়ে নান্দাইল থেকে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ গিয়ে অফিস টাইম (দুপুর ২টা) ধরা সম্ভব হয়নি। পরের দিন আবার ভর্তি জন্য কলেজে গিয়ে জানতে পারলাম গতকালই ভর্তির শেষদিন ছিলো এবং আজ সময় চলে গেছে, আর ভর্তি সম্ভব নয়। ভর্তি না হতে পেরে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছিলো সেদিন। কেনো ভাবেই বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।
বিষয়টি নিয়ে শাহনাজ পারভিনের বাবা জালাল উদ্দীন বলেন, কলেজের অফিস সহকারীর একটু গাফিলতির কারনে আজ আমার মেয়ের পড়ালেখা প্রায় অনিশ্চিত। যখন মেয়ের সহপাঠীরা বিভিন্ন কলেজে অনার্সে পড়ালেখা করছে, আর সেই সময়ে অনেকের চেয়ে ভালো রেজাল্ট করেও শাহনাজ বাড়িতে একা একা বেকার সময় পাড় করছে। এটা মেনে নিতে আমার পরিবারের কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে আমার মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে আমি ভিষণ চিন্তিত।
রবিবার (৫ নভেম্বর) কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বাদল চন্দ্র দত্তের অফিস কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি জানান, অফিস সহকারী সাজু কাজের চাপে এমন কর্মকাণ্ড পূর্বেও করেছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শাহনাজ পরবর্তী সময়ে আমার সাথে আর যোগাযোগ করেনাই। তবে কলেজ প্রিন্সিপাল তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান সাজুর শিক্ষার্থীদের সাথে এমন বাজে ব্যবহারের দায়ে অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তার (মাস্টারোল) নিয়োগ বাতিল করে নতুন কর্মচারী পদায়ন করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর